জৈন্তাপুরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, আটক ২
জৈন্তাপুর প্রতিনিধিঃ সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় নিজগৃহে আত্মহত্যা করেছেন ১নং নিজপাট ইউনিয়নের রুপচেং গ্রামের গৃহবধূ ফারজানা আক্তার শিমু (২৩)। নিহতের বাবা বিষয়টি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবী করছেন। রহস্যজনক এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ও শাশুড়ীকে জিঞ্জাসাবাদের জন্য পুলিশের হেফাজতে নিয়ে এসেছে জৈন্তাপুর মডেল থানা ।
মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন বাবা। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী রাসেল আহমদ (২৮) ও শাশুড়িকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবার এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে ১১ জুলাই শনিবার সকাল ৯টায় উপজেলার রূপচেং গ্রামে। ৩ মাসের অন্তস্বত্তা নিহত ফারজানা আক্তার শিমু রূপচেং গ্রামের রাসেল আহমেদের স্ত্রী। নিহতের পিতা সেলিম আহমদ জানান, প্রায় ছয় মাস আগে মৃত সামসুল ইসলামের ছেলে রাসেল আহমদের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবি করর মানসিক চাপ দেয় স্বামীর বাড়ির লোকজন প্রায়ই কটূক্তিসহ চাপ প্রোয়গ করতেন। এসব বিষয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও জানান, গত ৬ জুলাই শিমুকে তার স্বামী ও শাশুড়ি চিকিৎসার জন্য জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হলে শিমু অসুস্থ অবস্থায় বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা শেষে গত ১০ জুলাই উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিকেলে তাকে আবার স্বামীর বাড়িতে পৌঁছে দেন।
নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী,শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টায় শিমুর স্বামী রাসেল আহমদ ফোন করে জানান, শিমু ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গেলে তাদের দাবি, প্রায় ১০–১৫ মিনিট পর শিমুকে সেখানে আনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জৈন্তাপুর মডেল থানায় খবর দেয় এবং পুলিশ হাসপাতালে ও পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তবে এই ঘটনাটিকে সন্দেহজনক মৃত্যু বলে দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন,খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হব। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত ফারজানা আক্তার শিমুর স্বামী রাসেল আহমদ ও শাশুড়ীকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।