জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:: জৈন্তাপুরে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠাতব্য এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নিকট হতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ফরম পূরণের নামে অতিরিক্ত ফি আদায় করছে। অতিরিক্ত ফি আদায় করলেও ফি আদায়ের রশিদ দেওয়া হচ্ছে না।
জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, ফরম পূরণের টাকা পরিশোধ করলেও রশিদ দেওয়া হয় না। শিক্ষার্থীরা জানায়, ফরম পূরণের টাকা জমা দিয়ে গেলেও অভিভাবকদের টাকা জামাদানের রশিদ দেখাতে পারি না।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করছে। এ বিষয়ে রাংপানি ক্যাপ্টেন রশিদ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বিজ্ঞান বিভাগে ৩ হাজার ৩৫০ টাকা এবং মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগে ৩ হাজার ২৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে ৩ মাসের কোচিং ফি ১ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। সারীঘাট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বদিউল আলম জানান, ৩ হাজার ৬০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে বোর্ড ফি ১ হাজার ৬৫০ টাকা, উন্নয়ন ফি ৫ শ টাকা, আনুষঙ্গিক ফি ১৫০ টাকা, কোচিং ফি ৩ মাসে ১২ শ টাকা। জৈন্তাপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হাসেম জানান, তারা ২ হাজার ৮৫০ টাকা করে নিচ্ছেন। তার মধ্যে বোর্ড নির্ধারিত ফি ১ হাজার ৫৫০ টাকা, সেন্টার ফি ৩ শ টাকা এবং বিশেষ ক্লাস ফি বাবত ১ হাজার টাকা। জৈন্তিয়াপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা বেগমের সাথে একাধিকবার মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তাফা জানান, বিজ্ঞান বিভাগে ৪ হাজার ২৫০ এবং বাণিজ্য ও মানবিক শাখায় ৪ হাজার ১৫০ টাকা হারে ফি আদায় করছেন। তার মধ্যে কোচিং ফি ১২শত টাকা নেওয়া হচ্ছে। হরিপুর বহুমূখি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাজির আলী সরকার জানান, বিজ্ঞান বিভাগে ৩ হাজার ১০০ টাকা এবং মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগে ৩ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। তার মধ্যে কোচিং ফি ৮ শত টাকা।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলেমান হোসাইন জানান, আমার কাছে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে আমি খতিয়ে দেখব। সরকারি নির্দেশনা আমি সকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। যাতে কেউ অতিরিক্ত ফি আদায় না করে। তবে অভিভাবকদের সাথে আলোচনাসাপেক্ষে বিশেষ ক্লাস ফি বা কোচিং ফি আদায় করতে পারে।

