নগরীর ভয়ংকর প্রতারক ইলেক্ট্রিকশিয়ান মোঃ জসিম মিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেট নগরীর বাগবাড়ী নরশিংটিলার ১১৮ সুহেল ভিলার ভাড়াটিয়া বাসিন্দা কুমিল্লার গাঞ্জিয়া গ্রামের মোছাম্মাৎ চম্পা বেগম,সাং গান্জিয়া পাড়া,থানাঃ লাকসাম,জেলাঃ কুমিল্লা। সিদ্দিক মিয়ার ছেলে মোঃ জসিম মিয়া (৩৭)। তার চাচাতো ভাই দিলু মৌলানার নামানুসারে তাদের পরিচয় গ্রামে।
জসিম বাগবাড়ী নরশিংটিলায় জৈনক বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে হেলপার হিসাবে কাজ করতো। সেই কাজের সুবাদে নিজেকে বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি কর্মচারী পরিচয় দিয়ে মানুষের সাথে নানানভাবে প্রতারনা করতো।
জানাযায়, জসিমের প্রথম স্ত্রীর সাথে পারিবারিক কলহের জের ধরে ডিভোর্স হয়। প্রথম স্ত্রীর সংসারে তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এরপরে বাগবাড়ী নরশিংটিলার বাসিন্দা মৃতঃ তাজুউল্লাহর মেয়ে সাজনাকে ২য় স্ত্রী হিসাবে গ্রহন করে। সাজনা বেগমের সাথে দীর্ঘ ১৭/১৮ বছর যাবৎ ধরে সংসার জীবনে জসিম নিজেকে সিলেট বিদ্যুৎ অফিসের সরকারি কর্মচারী পরিচয়ে প্রতারনার মাধ্যমে আরো ৪/৫ টি বিয়ে করে। আমি সাজনা বেগম ২য় স্ত্রী, সাজনা বেগমের দুই সন্তান রয়েছে, ৩য় বিয়ে ভোলার সন্দীপে, ৪র্থ বিয়ে নোয়াখালীতে,৫ম বিয়ের খবর জানার আগে সেই স্ত্রীর সাথে আনুমানিক ৬ মাস সংসার করে পালিয়ে আসে।সর্বশেষ বিগত মাস দুয়েক আগে জসিম হঠাৎ করে গায়েব হয়ে যায়, অনেক খোজাখুজির পর অবশেষে কুমিল্লা লাকসামে তার খোঁজ মিলে। পরে তাকে গায়েব হওয়ার কারন জানতে চাইলে সে জানায়,আমি আবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি।
এব্যাপারে জসিমের দ্বিতীয় স্ত্রী সাজনা বেগম বলেন,বিগত কিছু দিন ধরে সে আমাকে ব্যবসা করার জন্য এনজিও থেকে কিস্তিতে টাকা তুলে দেওয়ার কথা বলে। আমি তাহার চলাফেরা সন্দেহ জনক হওয়ায় তাকে কিস্তিতে টাকা তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানাই। সে আমাকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বন করে। পরে সে আমার ছেলের মাথায় হাত রেখে কসম করে বলে সে এই টাকা দিয়ে ব্যবসা ছাড়া অন্য কিছু করবে না। আমি তখন জসিমের কথায় আস্বস্ত হয়ে ৫০,০০০/(পঞ্চাশ হাজার টাকা) টাকা তুলে দেই। এর দুয়েক দিন পর সকালে কাজের কথা বলে আর বাসায় ফিরে আসেনি। পরে অনেক খোজাখুজি করে কুমিল্লার লাকসামে গিয়ে তার খোঁজ মিলে। জানতে পারি সে আবারো বিয়ে করেছে।
তিনি আরো বলেন,জসিম একজন প্রতারক সে আমার স্বামী হলে কি হবে তার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবি করি। সে একের পর এক প্রতারনার ফাঁদে ফেলে অনেক নারীর সর্বনাশ করেছে। তাছাড়া নরশিংটিলা এলাকায় অনেকে প্রতারিত করার ও অভিযোগ রয়েছে তার উপর। জসিমের মতো ভয়ংকর প্রতারককে প্রতিহত করতে তিনি সিলেট ও কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সাজনা বেগম তার এহেন প্রতারনার প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।