
জনতার ডাক :সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘুষ গ্রহণের সময় হাতেনাতে আটকের ঘটনায় ৩ দিনের রিমান্ডে থাকা নার্স আমিনুল ইসলাম ও সুমন চন্দ্র দেবকে ৩ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো লাপাত্তা ঘটনার মূল হোতা বিএনএ’র সিওমেক শাখার সাধারণ সম্পাদক ও হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ইসরাইল আলী সাদেক। ১০ দিন ধরে কর্মস্থলেও অনুপস্থিত তিনি। এদিকে, অভিযুক্ত ৩ নার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া।
জানা গেছে, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গীতা রাণী হালদার নামের এক সিনিয়র স্টাফ নার্সকে ২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর অসদাচরণের অভিযোগে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর ৮ বছর পর ২০২৩ সালের ৩ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে গীতা রাণীকে চাকরিতে বহাল করা হয়। চাকরিতে বহালের ১ বছর পেরিয়ে গেলেও নার্স গীতা রাণী হালদার তার বরখাস্ত থাকাকালীন বকেয়া বেতন ৩৪ লাখ ১০ হাজার ৫৬ টাকা পাননি।
গত বছরের শেষের দিকে একই হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ইসরাইল আলী সাদেক ওই বকেয়া বিল পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে গীতা রাণী হালদারের কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।
সাদেকের এই প্রস্তাবে গীতা রাণী হালদার রাজি হন এবং তার কথামতো গত ৯ জানুয়ারি ওসমানী হাসপাতালের আরেক স্টাফ নার্স আমিনুলের কাছে ৬ লাখ টাকা দেন।
এদিকে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওইদিন হাসপাতালে অভিযান চালায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। এ সময় ৬ লাখ টাকাসহ হাতেনাতে আটক হন নার্স আমিনুল ইসলাম। তার দেওয়া তথ্যমতে সুমন চন্দ্র দেবকেও আটক করা হয়। কিন্তু এ সময় পালিয়ে যান ঘটনার মাস্টারমাইন্ড ইসরাইল আলী সাদেক।
ওই রাতেই ওসমানী হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হানিফ বাদী হয়ে নার্স ইসরাইল আলী সাদেক, আমিনুল ও সুমনের নামে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত ইসরাইল আলী সাদেক। এর প্রেক্ষিতে গত ১৩ জানুয়ারি ওসমানী হাসপাতালের স্মারক নং-ওমেকহাসি/ই-১/২০২৪/২৩৪ অনুযায়ী সাদেককে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদান করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জবাব প্রদানের জন্য শোকজ করা হয়। কিন্তু ৬ কর্মদিবস পেরিয়ে গেলেও সেই শোকজের জবাব দেননি ইসরাইল আলী সাদেক। কর্মস্থলে যোগদানও করেননি।
এই সমস্ত বিষয় তুলে ধরে নার্সিং ও মিডওয়াইফারী অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে গত ১৪ জানুয়ারি চিঠি দেন ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক। অভিযুক্ত ৩ ঘুষখোর নার্সের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে অনুরোধ জানিয়েছেন ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক।
অন্যদিকে, সুমন ও আমিনুলকে ৩ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মইনুদ্দিন সিপন বলেন, নার্স আমিনুল ও সুমন চন্দ্র দেব রিমান্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। সাদেককে ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।