জকিগঞ্জের ফুলতলীতে হামলা: ৩ শিক্ষকসহ ১৭ ছাত্র বরখাস্ত

ঘটনায় আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জকিগঞ্জ প্রতিনিধি :: জকিগঞ্জের ফুলতলী মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্র শিক্ষকদের হামলার ঘটনায় ফুলতলী মাদ্রাসার তিন শিক্ষকসহ ১৭ জন ছাত্রকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ফুলতলী মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা রায়হান আহমদ চৌধুরী এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ফুলতলীগ্রামের আবদুল হাসিবের বাড়ীতে হামলার ঘটনায় এতিমখানার শিক্ষক মাওলানা সেলিম আহমদ, মাওলানা বদরুল ইসলাম ও হাফিজ লিয়াকত আলীসহ ১৭ ছাত্রকে বরখাস্ত করে আরো ৭০ জন ছাত্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্র শিক্ষকের হামলার পর থেকে বিষয়টি আপোষ নিষ্পত্তি করতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উদ্যোগ নেন। অবশেষে সোমবার সকালে হামলার ঘটনাটি আপোষে সমাধান হওয়ার পথ খুলেছে বলে নিশ্চিত করেন মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহতাব আহমদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আপোষে সমাধান করার লক্ষে শহীদ খানের বাড়ীতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বৃহস্পতিবার রাতের বিচার বৈঠকের মধ্যস্থতাকারী প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল খায়ের চৌধুরী, সাবেক মেম্বার ইয়াসিন আলী চৌধুরী, কাশিম খাঁন, আব্দুল মজিদ চৌধুরী, মিসবাহ উদ্দিন খাঁন, মস্তুফা চৌধুরী, সুহেল চৌধুরী, শহীদ খাঁনকে উপস্থিত করা হয়। পরে ফুলতলী সাহেবের ছোট ছেলে মাওলানা হুসাম উদ্দিন চৌধুরী হামলার জন্য এতিমখানার ছাত্র-শিক্ষকদের একতরফাভাবে দায়ি করে এজন্য দু:খপ্রকাশ করেন। পরে মাওলানা হুছাম উদ্দিনসহ মধ্যস্থতাকারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হাসিব চৌধুরীর বাড়ীতে যান। সেখানে গিয়ে হাসিবের চাচা কমর উদ্দিন চৌধুরীর কাছে হুছাম উদ্দিন দু:খপ্রকাশ ও হামলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।’
এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ নেতার চাচা কমর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ফুলতলী সাহেবের ছোট ছেলে মাওলানা হুসাম উদ্দিন চৌধুরী স্থানীয় গণ্যমান্য ও এতিমখানার শতাধিক ছাত্র নিয়ে বাড়ীতে এসে হামলার জন্য দু:খপ্রকাশ ও ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু আমার ভাই গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীসহ তার পরিবারের সবাই চিকিৎসাধীণ থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতে বিষয়টি নিষ্পত্তির ব্যাপারে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত দেয়া সম্ভব হয়নি। আহতরা সুস্থ হলে এলাকার গণমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টার উদ্যোগ নেয়া হবে।
এদিকে সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাওলানা হুসাম উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ তাপাদার, ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ ও ইউপি চেয়ারম্যান মাহতাব আহমদ চৌধুরী বিষয়টি আপোষে নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নেয়ায় ফুলতলী এলাকার উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।
এলাকার লোকজনের ধারণা ফুলতলী মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্র শিক্ষকদের ন্যক্কারজন তান্ডবের পিছনে কোন কুচক্রি মহলের বড় ধরণের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, ফুলতলী স্পোটিং ক্লাব নামক ফেইসবুক আইডির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা ছাত্রলীগের উপ-পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হাসিব চৌধুরীর বাড়ীতে ৩টি ঘরে ফুলতলী এতিমখানার ছাত্র-শিক্ষকরা হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র তছনছ করে ও হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন।



