জুড়ীতে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন


জুড়ী (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা:: মৌলভীবাজারের জুড়ীতে পাষন্ড স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্ত্রীর পরিবার যৌতুক মেটাতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বামী তাকে খুন করেন। ঘটনাটি (৪ মার্চ) শনিবার সকাল ১১টায় জুড়ী উপজেলার গোয়াল বাড়ী ইউনিয়নের পুঁটিছড়া গ্রামের জোয়াদ আলীর বাড়ীতে ঘটেছে। এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ওই গ্রামের জোয়াদ আলীর বড় ছেলে আব্দুন নূরের সাথে সাগরনাল ইউনিয়নের হোসেনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী আলা উদ্দিনের বড় কন্যা সুমি বেগম (১৯) এর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সুমির পিতা স্বামীর পরিবারকে স্বর্নালংকারসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকার মালামাল দিয়ে দেন। বিয়ের পর প্রায় ৩ মাস তাদের দাম্পত্য জীবন ভালই চলছিল। হঠাৎ একদিন সুমির স্বামীর সাথে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। এসময় সুমির স্বামী আব্দুন নূর তাকে ও তার পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালী গালাজ করতে থাকে। সুমি তার প্রতিবাদ করলে তার উপর স্বামী নির্যাতন চালায়। সুমির স্বামী কর্তৃক নির্যাতনের খবর পিতার বাড়ীতে জানালে সুমির পরিবার তাকে ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দেন। এব্যাপারে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিবাদ মিটিয়ে দিয়ে তাদের উভয়কে সংসার সুন্দর করে চালাতে বলেন। এরপর কিছুদিন সংসার ভালই কেটেছিল সুমির। একদিন সুমির স্বামী আব্দুন নূর তাকে তার বাপের বাড়ী থেকে ৫০হাজার টাকা যৌতুক আনার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এতে বাদ সাদে সুমি, স্বামীর দাবীকৃত ৫০হাজার টাকার যৌতুক সুমির গরীব বাবার পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেয়। এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বাক বিতন্ডতার সৃষ্টি হয়। তাদের হইহুল্লোলে সুমির শ্বশুর জোয়াদ আলী, শ্বাশুড়ী, দেবর আব্দুর রহমান ও ননদ মায়ারুন নেছা পাশের রুম থেকে এসে বিবাদ না মিটিয়ে উল্টো সুমির উপর চড়াও হয়। সাথে সাথে তারা সুমিকে মানষিক ও শারিরীকভাবে নির্যাতন চালায় এবং সুমিকে বলতে থাকে তোর বাপের বাড়ী থেকে ৫০ হাজার টাকা না এনে দিতে পারলে তোকে ভাতে মারবো বলে হুমকি প্রদান করে। এতো নির্যাতনের পরও সুমি তার পিতার অবস্থা বিবেচনা করে মুখ বুজে সহ্য করে সংসার চালাতে থাকে। তারা আরো জানান, সুমির পরিবার যৌতুক মেটাতে না পারায় এভাবে বহুবার তার উপর মধ্যযুগীয় কায়দায় এমন নির্যাতন চালাত যা আইয়েমে জাহেলিয়াকেও হার মানাবে। সরেজমিনে সুমির পিতার বাড়ী হোসেনাবাদ গিয়ে তার মা আসমা বেগমের সাথে কথা হলে, তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, গত ২০১৫সালে পারিবারিকভাবে আব্দুন নূরের সাথে আমার বড় মেয়ে সুমিকে বিয়ে দিয়েছিলাম। মেয়ের সুখের আশায় তার সাথে লক্ষাধিক টাকার মালামাল দিয়েছিলাম। এরপরও স্বামীসহ তার পরিবার আমার মেয়েকে বাঁচতে দেয়নি। ঘটনার দিন সুমির স্বামী, দেবর ও ননদ মিলে আমার মেয়েকে নির্যাতন করে আধামরা করে তার মুখে বিষ ঢেলে দেয়। সাথে সাথে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। খবর পেয়ে আমার বড় ছেলে আব্দুস সামাদ ও আমার কয়েকজন আত্মীয়স্বজন নিয়ে সুমিকে জুড়ী আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করান। তার অবস্থা অবনতি হলে তাকে কুলাউড়া হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। সুমির মা তার মেয়ের হত্যাকারীদের সুষ্ঠ বিচার চান। জুড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ জালাল উদ্দিন এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এব্যাপারে সুমির বড় ভাই আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে আব্দুন নূরকে প্রধান আসামী করে জুড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন,মামলা নং ১/০২। তিনি বলেন, ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসার পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



