রাজনীতি

জৈন্তাপুরে প্রার্থী হচ্ছেন না জয়নাল, অশ্রু জরালো জৈন্তিয়া বাসী।

 

আমির উদ্দিনঃ সারা বাংলাদেশে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে যাকে খুঁজে পাই তিনি আর কেউ নন বৃহত্তর সিলেটের অবিসাংবাদিত নেতা, সারা বাংলার পরিচিত মুখ, জৈন্তিয়া মায়ের গরীব সন্তান, অবহেলিত আর্তমানবতার যোগ্য রাহবর, ম্যনবর জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সফল দুই দুই বারের চেয়ারম্যান জননেতা আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন। যাকে প্রথম দেখা সম্ভবত ২০০৭ সাল শহীদ শোয়েব আহমদ দুলাল হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে দরবস্ত বাজারে আয়োজিত প্রতিবাদ সভার প্রকাশিত বুলেটিং (ম্যাগাজিন) এর মাধ্যমে। তখন আমি পশ্চিম জাফলং উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র। লেখাপড়ার পাশাপাশি তখনই বৃহৎ পরিসরে ভাবতাম দেশ ও জাতি কে নিয়ে নিয়মিত পড়তে চেষ্টা করতাম মাসিক পত্রিকা কিশোর কন্ঠ, বিয়ের বাড়িতে গেলে গেইটের কলা গাছে প্যাঁচালো পত্রিকাও পড়তাম, আবার বাজার থেকে প্যাকিং করে আনা পুরাতন পত্রিকা ও পড়তাম, ছাত্র হিসেবে ভালো না হলেও ক্লাস গ্যাফ ও ইয়ার মিস ছিলোনা কখনই। ঠিক সেই সময়ে ম্যাগাজিনে মধ্যখানে বক্তব্যরত একটি ছবি দরবস্তের একজন ইমাম আমাদের মসজিদে থাকতেন, দাখিলে পড়াশুনা ও করতেন, তিনি বললেন উনি দরবস্তের জয়নাল, একটু তাকালাম আর দেখলাম খাড়া লম্বা চুল যেন অগ্নিঝরা বক্তব্য দিচ্ছেন। ম্যাগাজিনে আরো বক্তব্যরত দেখলাম জৈন্তাপুরের আরেক কৃতি সন্তান সাংবাদিক গোলজার আহমদ হেলাল ও এনামুল হক এনাম ভাই কে যাদের সাথে পরিচয় আরো কিছু দিন পরে। তখন থেকেই ব্যক্তিগত ভাবে জয়নাল আবেদীন কে জানার ও চেনার আগ্রহ থেকেই যাচ্ছে ক্রমান্বয়ে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলো আওয়ামীলীগ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করলো। সরকার গঠন করেই পূর্ব বিলুপ্ত উপজেলা পরিষদ কে কার্যকর তুলতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য সংসদে উত্থাপিত বিল পাশ করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আয়োজন করলো। তখন ২০০৯ সাল জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হলেন আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন। তখন সিলেটে আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যানার ফেষ্টুনে নামটি আরো ব্যাপক সাড়া পায়। পর্যায়ক্রমে তিনি নির্বাচিত হন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, তখন তাহার বলিষ্ঠ যোগ্যতায় জৈন্তাপুরের আরেক মুখ কামাল চেয়ারম্যান ও তাহার পক্ষে মাঠে ঝোরালো ভূমিকা রাখেন। ক্রমান্বয়ে দরবস্ত জামেয়ার কোন এক মিটিং এ জয়নাল আবেদীন কে আমার প্রথম দেখা। ধারাবাহিক ভাবে ২০০৮ সাল পশ্চিম জাফলং উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে গোয়াইনঘাট কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হই। ২০১০ সালে এইচএসসি পাশ করতে না করতেই ছাত্র সমাজের দ্বায়িত্বের খাতিরেই জয়নাল আবেদীন ভাই এর ফোন নাম্বার মোবাইলে সেইভ করি, সময় অবসরে ভালো বোরা এবং প্রতি মাসে একবার সোনার গাও বিজনেস সেন্টারের তাহার ব্যবসায়ী অফিসে সাক্ষাৎ করার সুযোগ হয়। দেখা হলেই রম্যরসে কথা বলতেন হাসতেন হাসাতেন দিতেন প্রেরনা যোগাতেন এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন। ক্রমান্বয়ে বড় হতে থাকি গ্রেজুয়েশন কমপ্লিট করি এবং গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উনাকে উপস্থিত করানো চেষ্টা করি। মাঝে মাঝে একটু ফোন কম রিসিভ করলেও অবসর হয়ে ফোন বেক করতেন। প্রয়োজনের তাগিদে ২০১৬ সালের প্রথম দিকে পাড়ি দেই অজানা প্রবাসের উদ্দ্যশে শুরু হয় ভার্চুয়াল জগতের আনাগোনা এক পর্যায়ে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠাই এক্সপেক্ট করেন তিনি। গতানুগতিক ভাবে লাইক কমেন্ট শেয়ার মেসিনজারে চ্যাট ইত্যাদির মাধ্যমে সম্পর্কের গভীরতা আরো বেড়েই চললো। ঠিক তখনই গঠিত হয় বিশ্ব ব্যাপি আর্তমানবতার শ্লোগান সমাজ সেবায় আমরা আবদ্বতার ব্যাক্য নিয়ে গোয়াইনঘাট প্রবাসী সমাজকল্যাণ পরিষদ বিভিন্ন মিটিং এ উনার মেসিনজারে বললেই উনি ছুটে চলে আসেন পাগলের মত। বক্তব্যে দেন প্রবাসীদের উৎসাহ উদ্দীপনা। সবসময় যে মানুষ টাকে কাছে পেয়েছি, পরামর্শ উপদেশ দিয়েছেন অভিবাবকের মত আজ জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছেন না কান্নায় বুকটা ফেটে গেলো, আর হয়ত জয়নাল ভাই কে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে ঢাকতে পারবো না, কান্না যেন তামাতেই পারছিনা। কিন্তু কি হবে এই বুক ভরা বেদনা নিয়ে সারা বাংলায় নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি নির্বাচনের সেই আমেজ আর নেই একসম একটা ইউনিয়ন পরিষদে দশ বারো জন প্রার্থী প্রতিদন্ধীতা করতেন আজ সেখান থাকেন দু তিন জন, নির্বাচনের সেই ঐতিহাসিক মাদুর্য আর নেই। পাশাপাশি সিনিয়রদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না জয়নাল আবেদীন শুনে সারা জৈন্তিয়ায় শুরু হয়েছে কান্নার রোল, ফেইসবুকে কেধেঁ ভাসাচ্ছেন জৈন্তাপুরের তরুনরা সকলের একটা আফসোস যে জয়নাল ভাই এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না। শতভাগ বিজয়ের সম্ভাবনা সত্ত্বেও নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করা এক বড় মনে ও বড় মাপের মানুষ বলে মন্তব্য বিশিষ্টজনের। তবে চেয়ারম্যান এর মতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান না হলেও আগের মতই সর্বদা পাশে থাকবেন জৈন্তাপুরের মানুষের। হাজার স্যালুট জয়নাল ভাই, সহস্র সালাম আপনায় বেঁচে থাকুন অনন্ত কাল জনতার মনিকোটায়। আমাদের কে ক্ষমা করবেন আমরা আপনার জন্য কিছু করতে পারি নি যেখানেই থাকবেন ভালো থাকবেন। পরিশেষে কবির ভাষায় বলতে চাই যেতে নাহি দেবো হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়। আগামী পর্বে আব্দুল হাকিম চৌধুরী, গোয়াইনঘাট। ধারাবাহিক ভাবে লুকমান আহমদ দক্ষিণ সুরমা, সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, ফেন্ষুগন্জ, নাজমুল ইসলাম, গোলাপগন্জ, আশিক চৌধুরী কানাইঘাট।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button