
স্টাফ রিপোর্টার::গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। অন্যরা হলেন- বেগমগঞ্জ থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মফিজুল ইসলাম এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ ও চৌকিদার আলী আসগর। গতকাল ওই ঘটনার পর জারি করা স্বঃপ্রণোদিত রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, অনীক আর হক ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। পরে নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, তৎকালীন ওসি, একজন এসআই ও এএসআইকে বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং চৌকিদারকে বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে এলজিআরডির সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে বেগমগঞ্জ উপজেলায় এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা নির্যাতনের সে ভিডিওচিত্র ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন।
এ বিষয়ে শুনানি নিয়ে গত বছরের ৫ই অক্টোবর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্যাতনের ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও থানার অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকা ঘটনার ভিডিও সরিয়ে ফেলতে বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনায় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কোনো অবহেলা আছে কি না, তা অনুসন্ধানে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেন। এবং ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে জনপ্রতিনিধি, পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় চৌকিদারের বিষয়ে আদালত যৌক্তিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিতে পারে বলে মত দেন। এরপর সেই প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে গতকাল রায় দিলেন হাইকোর্ট।



