জাতীয়রাজনীতিসারাদেশসিলেট বিভাগ

নিজামীর লাশ নিয়ে জটিলতা : দেশ জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা জোড়দার

জনতার ডাক: একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির দন্ডে দন্ডিত আসামি জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে এমন খবরে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন তার পাবনার গ্রামের বাড়ির আত্মীয় স্বজনরা।

স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন নিজ জন্মভূমি সাঁথিয়ার মনমথপুরের এলাকার মানুষ। সাথে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা।

এমন অবস্থায় শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতে মতিউর রহমান নিজামীর মরদেহ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত পাবনার মাটিতে ঢুকতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন জেলা, সদর উপজেলা ও নিজামীর নিজ এলাকার তরুণ প্রজন্ম ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্তরা।

স্বজনরা বলছেন, টেলিভিশনে খবর দেখে সঠিক তথ্য জানার আগ্রহে অপেক্ষা করছি। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তাদের কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।

গত রাতে মনমথপুরের স্বজনদের সঙ্গে আলাপকালে তারা এমন কথাই জানালেন। যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত মতিউর রহমান নিজামী জেলার সাঁথিয়া উপজেলার মনমথপুর গ্রামের লুৎফর রহমান খানের একমাত্র ছেলে। তারা ৩ ভাই-বোন।

 

গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে অনুভূতি প্রকাশ করলেন নিজামীর ভাতিজা আব্দুর রহিম। তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, ‘মতিউর রহমান নিজামী আমার চাচা। তিনি মানুষ হিসেবে একজন সৎ ও ভালো মানুষই ছিলেন।’

ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী এবং পরোপকারী এমন দাবি করে বলেন, ‘এমন মানুষ তিনি কখনও কারও ক্ষতির কথা চিন্তা করেননি।

আর তার সম্পদ বলেও আমার জানা মতে কিছু নেই। যা আছে তা সবই ছেলে-মেয়েদের। মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগের ওপর ভর করে সরকার তার বিরুদ্ধে এই রায় দিয়েছে।’

তিনি জোর দাবি করে বলেন, ‘চাচা আমাদের কাছে সম্পূর্ণ নির্দোষ। সরকারের রায়ে তো আর তাদের হাত নেই। এখন এটা মেনে নেয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।

আত্মীয়-স্বজনরা মসজিদে ও বাড়িতে দোয়া দরুদ ও কোরআন খতম করে দোয়া করছেন। তাকে আল্লাহ হেফাজত করবেন।’

নিজামীর চাচাতো ভাই আনছার আলী সাংবাদিকদের কাছে জানান, ‘এতো বড় আলেম কয়টা আছে, সে যে দেশের সম্পদ। সরকার বড়ই ভুল করছে, আমার ভাইয়ের মতো সুন্মানী আমলকারী লোকদের মিথ্যা ভাবে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে। এরকম একজন সম্পদ হারিয়ে গেলে কোনো দিনই পুরুণ হবে না।’

নিজামীর ভাতিজা আব্দুল মজিদ ওরফে মানিক খানের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে টিভিতে এসব খবর শুনতিছি।’ মনকে আর মানাতে পারছি না।

এলাকার যুবক আল-আমিন, ফয়সাল, মাহমুদ, রিপন, জুয়েল, মিম, ছালাম এরাও সাংবাদিকদের জানান, রাজনীতি মাজনীতি বুঝিনি। সে যে আমাদের গৌরব ছিল এটা জানি। এমন মানুষকে ফাঁসি দিচ্চে খুবই কষ্ট হচ্ছে।’

নিজামীর গ্রামের আত্মীয়-স্বজনরা জানান, তার বাবা-মা গ্রামের মনমথপুর গোরস্থানে শায়িত আছেন। তিনি গ্রামে আসলেই তাদের কবর জিয়ারত করতেন এবং বলতেন তাকেও যেন এখানে কবর দেয়া হয়।3

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button