অপরাধআইনসারাদেশ

প্রতারণা ও ধর্ষণ মামলায় কারাগারে সাবেক এমপি

প্রতারণা ও ধর্ষণ মামলায় কারাগারে সাবেক এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিজের নাম, পরিচয় পরিবর্তন করে তালাক হওয়া এক নারীকে বিয়ে, প্রতারণা ও  ধর্ষণ মামলায় সরকারদলীয় পাবনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার আজিজুল হক আরজু ওরফে ফারুককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) আরজু ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এর বিচারক বেগম সামছুন্নাহারের আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।

পরে শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে সোমবার (১৬ জানুযারি) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এর বিচারক বেগম সামছুন্নাহার পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির করেন।

একই সঙ্গে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামি সংক্রান্ত প্রতিবেদন পুলিশকে দাখিল করতে দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ,  ২০০০ সালের ডিসেম্বরে বাদির প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়।২০০১ সালের শেষের দিকে বাদির চাচার মাধ্যমে আরজুর সঙ্গে পরিচয়। আরজু তাকে জানান, প্রথমপক্ষের স্ত্রী মারা গেছেন।

এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেম হয় এবং ২০০৩ সালে বিয়ে করেন, ২০০৮ সালে তাদের কন্য সন্তানের জন্ম হয়।

বাদির অভিযোগ, তাকে ফ্ল্যাট কিনে দেওয়ার কথা বললে ১৮ লাখ টাকা এবং ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার বেচে আসামিকে দেওয়া হয়। কিন্তু আরজু ফ্ল্যাট কেনা কিংবা টাকা ফেরত দেননি।

একপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন আরজুর প্রথমপক্ষের স্ত্রী জীবিত। আরও জানতে পারেন, বিবাদির এর আগে বাদির কাছে নিজের নাম ফারুক হোসেন হিসেবে প্রচার করলেও প্রকৃতপক্ষে তার নাম খন্দকার আজিজুল হক আরজু। মিথ্যা তথ্য ও পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্যই বাদিকে বিয়ের নামে প্রতারণা করেছেন। এরপর আসামি কয়েকবার নিজে ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দ্বারা বাদীকে হত্যার উদ্দেশে আক্রমণ করেন। একপর্যায়ে আসামি বাদীর সঙ্গে বিয়ে, গর্ভপাত ও ঔরসজাত কন্যার পিতৃপরিচয় সরাসরি অস্বীকার করেন।

এ ঘটনায় গত বছরের ২২ এপ্রিল এক আইনজীবী আদালতে মামলা করেন। ট্রাইব্যুনাল বাদির জবানবন্দি নিয়ে পিবিআইকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের আদেশ দেন। অভিযোগ তদন্তের পর ঢাকা মহানগর উত্তর পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম ট্রাইব্যুনালে গত পাঁচ জানুয়ারি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে প্রতিবেদন জমা দেন।

মামলার তদন্তে বাদির কন্যাসন্তানের ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়। সেখানে কন্যাসন্তান বাদির গর্ভজাত এবং বিবাদির জন্মদাতা বাবা বলে প্রতিবেদন উঠে আসে।

প্রধান সম্পাদক

জনতার ডাক ২৪ ডট কম এর প্রধান সম্পাদক।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button