
লিওনেল মেসি। লুইস সুয়ারেজ। নেইমার। তিনজন।
স্প্যানিশ লিগ। স্প্যানিশ কাপ। চ্যাম্পিয়নস লিগ। শিরোপাত্রয়ী।
২০০৯। ২০১১। ২০১৫। তিন বিশ্বকাপ।
কী আশ্চর্য, আজ জাপানের ইকোহামায় অনুষ্ঠিত ফাইনালেও তিনের বৃত্তেই থাকল বার্সা। রিভার প্লেটকেও ৩-০ গোলে হারিয়ে ক্লাব শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্ব মুকুটও পরল ইউরোপের সেরারা। প্রথম ক্লাব হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ জিতল বার্সা। সব মিলিয়ে এটি এ বছরে তাদের পঞ্চম শিরোপা। স্প্যানিশ সুপার কাপটা অবিশ্বাস্যভাবে হেরে না গেলে গার্দিওলার আমলের শিরোপা-ষষ্ঠকের পুনরাবৃত্তি হয়েও যেত।একটি গোল মেসির। বাকি দুটো সুয়ারেজের। গোল তালিকায় নেইমারের নাম নেই। কিন্তু দুটো গোলই নেইমারের বানিয়ে দেওয়া। সেমিফাইনালে না থাকলেও আজ ঠিকই এমএসএন-ত্রয়ী মাঠে নামল। এবং অর্কেস্ট্রা জমিয়ে তুলতে সময় লাগল ৩৫ মিনিট। এর পরই নেইমারের ক্রস থেকে মেসির প্রথম গোল। প্রথমার্ধ ১-০ ছিল বলে রিভারের ঘুরে আসার সম্ভাবনা সুযোগ দুটোই ছিল।কিন্তু ৪৯ মিনিটে সুয়ারেজ তাঁর প্রথম আর ৬৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করে ‘সব শেষ’ করে দেন। এই টুর্নামেন্টে উরুগুইয়ান স্ট্রাইকারের পাঁচ গোল। সব মিলে তিন আসরে পাঁচ গোল লিওনেল মেসিরও। ক্লাব বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসি-সুয়ারেজ ছাড়াও আছেন আর্জেন্টিনার সিজার ডেলগাডোও।বক্সের বাঁ পাশ থেকে নেইমারের হেড থেকে আসা বলটা যখন পেলেন, সামনে দাঁড়িয়ে এক রিভার প্লেট ডিফেন্ডার। বাঁ হাঁটুর আলতো টোকায় তাঁকে এড়িয়ে গেলেন। বল মাটিতে পড়ার আগেই ওই ডিফেন্ডারের পড়িমরি চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে আবারও বাঁ পায়ের ছোঁয়া। রিভার প্লেট গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল জড়িয়ে গেল জালে…গোল! লিওনেল মেসি!ম্যাচের আগে তাঁকে ঘিরে সংশয় ছিল, তিনি খেলতে পারবেন তো? মাত্রই দুদিন আগে সেমিফাইনালের দিন তাঁর কিডনিতে পাথর ধরা পড়েছিল। সেটির অস্ত্রোপচার শেষে এই ম্যাচে খেলতে পারবেন কি না, পারলেও কতক্ষণ এ নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে গেল। তিনি খেললেন। গোলও করলেন।পরথমার্ধে মেসির ওই গোলের আগে ম্যাচে বেশ ভালোভাবেই লড়ছিল রিভার প্লেট। বার কয়েক বার্সার গোলমুখে আক্রমণও করেছিল। সঙ্গে পুরো মাঠ জুড়ে প্রেসিংয়ে বেশ ব্যস্ত রেখেছিল বার্সাকে। তবে ৩৬ মিনিটে মেসি-নেইমার যুগলবন্দীর ওই গোলটিতেই স্বস্তি খুঁজে পেয়েছে বার্সেলোনা।হিপ হিপ হুররে! বিশ্বকাপ! ছবি: রয়টার্স সুয়ারেজের জন্য টুর্নামেন্টটি স্মরণীয়ই হয়ে থাকবে। সেমিফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছেন। আজ ফাইনালে জোড়া গোল। প্রথমটি দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই প্রায় নিশ্চিত করে দিল রিভারের ছিটকে পড়া। মাঝমাঠ থেকে বাতাসে ভাসানো সার্জিও বুসকেটসের দুর্দান্ত লব থ্রু স্রেফ ধন্দে ফেলে দিল রিভারের শেষ রক্ষণসীমাকে। সেটি ধরেই ধারালো গতিতে ঢুকে পড়লেন সুয়ারেজ। রিভার গোলরক্ষক পা দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করলেন বটে, বৃথা চেষ্টা! ১৯ মিনিট পর আবারও গোল। এবারের গোলটি অবশ্য দুর্দান্ত। নেইমারের অসাধারণ ক্রস থেকে হেড করে বলটাকে জালে জড়িয়ে দিলেন সুয়ারেজ। অভিষেক টুর্নামেন্ট, তাতে দুই ম্যাচেই ৫ গোল—টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের সোনালি বলটা গেল তাঁর কাছেই।বাকি সময়টায় যা হলো, তাতে গোলের তালিকায় নেইমারেরও নাম লেখানো কিংবা সুয়ারেজের হ্যাটট্রিকের চেষ্টা। টুর্নামেন্টের অতীতে ইউরোপীয় দলগুলোকে বেশ ভোগানোর যে উদাহরণ আছে দক্ষিণ আমেরিকার; সেগুলোও ততক্ষণে ভুলে গেছে সবাই। অবশ্য রিভার সান্ত্বনার একটি গোল পেতেই পারত। ক্লদিও ব্রাভোর দুর্দান্ত সেভের পর পোস্ট হতাশ করেছে আর্জেন্টিনার ক্লাবটিকে।মেসি রুপালি বল পেয়েছেন, যা পেয়ে তিনি অভ্যস্ত নন। অবশ্য সোনালি বছরের শেষটা মেসি টেনে দিলেন, এক বছরে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে সাতটি টুর্নামেন্টেই গোল করার রেকর্ড নিয়ে। আর সামনে তো ব্যালন ডি’অরের সোনালি বলটা অপেক্ষা করছেই!
আর নেইমার? তিনি খুশি রইলেন দলের দুই গোলে অবদান রেখে, দলের সঙ্গে শিরোপা উল্লাস করতে পেরেই। চার বছর আগে এই মাঠেই বার্সেলোনার কাছে হেরে ক্লাব বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়েছিলেন। সেই স্মৃতি ফিরে এসেছিল কি না, কে জানে। তবে ট্রফি নিয়ে নেইমার যেভাবে আনন্দে লাফালেন, বয়সটা যে তাঁর বছর চারেক কমে গিয়েছিল তখন, সন্দেহ নেই!
স্প্যানিশ লিগ। স্প্যানিশ কাপ। চ্যাম্পিয়নস লিগ। শিরোপাত্রয়ী।
২০০৯। ২০১১। ২০১৫। তিন বিশ্বকাপ।
কী আশ্চর্য, আজ জাপানের ইকোহামায় অনুষ্ঠিত ফাইনালেও তিনের বৃত্তেই থাকল বার্সা। রিভার প্লেটকেও ৩-০ গোলে হারিয়ে ক্লাব শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্ব মুকুটও পরল ইউরোপের সেরারা। প্রথম ক্লাব হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ জিতল বার্সা। সব মিলিয়ে এটি এ বছরে তাদের পঞ্চম শিরোপা। স্প্যানিশ সুপার কাপটা অবিশ্বাস্যভাবে হেরে না গেলে গার্দিওলার আমলের শিরোপা-ষষ্ঠকের পুনরাবৃত্তি হয়েও যেত।একটি গোল মেসির। বাকি দুটো সুয়ারেজের। গোল তালিকায় নেইমারের নাম নেই। কিন্তু দুটো গোলই নেইমারের বানিয়ে দেওয়া। সেমিফাইনালে না থাকলেও আজ ঠিকই এমএসএন-ত্রয়ী মাঠে নামল। এবং অর্কেস্ট্রা জমিয়ে তুলতে সময় লাগল ৩৫ মিনিট। এর পরই নেইমারের ক্রস থেকে মেসির প্রথম গোল। প্রথমার্ধ ১-০ ছিল বলে রিভারের ঘুরে আসার সম্ভাবনা সুযোগ দুটোই ছিল।কিন্তু ৪৯ মিনিটে সুয়ারেজ তাঁর প্রথম আর ৬৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করে ‘সব শেষ’ করে দেন। এই টুর্নামেন্টে উরুগুইয়ান স্ট্রাইকারের পাঁচ গোল। সব মিলে তিন আসরে পাঁচ গোল লিওনেল মেসিরও। ক্লাব বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসি-সুয়ারেজ ছাড়াও আছেন আর্জেন্টিনার সিজার ডেলগাডোও।বক্সের বাঁ পাশ থেকে নেইমারের হেড থেকে আসা বলটা যখন পেলেন, সামনে দাঁড়িয়ে এক রিভার প্লেট ডিফেন্ডার। বাঁ হাঁটুর আলতো টোকায় তাঁকে এড়িয়ে গেলেন। বল মাটিতে পড়ার আগেই ওই ডিফেন্ডারের পড়িমরি চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে আবারও বাঁ পায়ের ছোঁয়া। রিভার প্লেট গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল জড়িয়ে গেল জালে…গোল! লিওনেল মেসি!ম্যাচের আগে তাঁকে ঘিরে সংশয় ছিল, তিনি খেলতে পারবেন তো? মাত্রই দুদিন আগে সেমিফাইনালের দিন তাঁর কিডনিতে পাথর ধরা পড়েছিল। সেটির অস্ত্রোপচার শেষে এই ম্যাচে খেলতে পারবেন কি না, পারলেও কতক্ষণ এ নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে গেল। তিনি খেললেন। গোলও করলেন।পরথমার্ধে মেসির ওই গোলের আগে ম্যাচে বেশ ভালোভাবেই লড়ছিল রিভার প্লেট। বার কয়েক বার্সার গোলমুখে আক্রমণও করেছিল। সঙ্গে পুরো মাঠ জুড়ে প্রেসিংয়ে বেশ ব্যস্ত রেখেছিল বার্সাকে। তবে ৩৬ মিনিটে মেসি-নেইমার যুগলবন্দীর ওই গোলটিতেই স্বস্তি খুঁজে পেয়েছে বার্সেলোনা।হিপ হিপ হুররে! বিশ্বকাপ! ছবি: রয়টার্স সুয়ারেজের জন্য টুর্নামেন্টটি স্মরণীয়ই হয়ে থাকবে। সেমিফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছেন। আজ ফাইনালে জোড়া গোল। প্রথমটি দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই প্রায় নিশ্চিত করে দিল রিভারের ছিটকে পড়া। মাঝমাঠ থেকে বাতাসে ভাসানো সার্জিও বুসকেটসের দুর্দান্ত লব থ্রু স্রেফ ধন্দে ফেলে দিল রিভারের শেষ রক্ষণসীমাকে। সেটি ধরেই ধারালো গতিতে ঢুকে পড়লেন সুয়ারেজ। রিভার গোলরক্ষক পা দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করলেন বটে, বৃথা চেষ্টা! ১৯ মিনিট পর আবারও গোল। এবারের গোলটি অবশ্য দুর্দান্ত। নেইমারের অসাধারণ ক্রস থেকে হেড করে বলটাকে জালে জড়িয়ে দিলেন সুয়ারেজ। অভিষেক টুর্নামেন্ট, তাতে দুই ম্যাচেই ৫ গোল—টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের সোনালি বলটা গেল তাঁর কাছেই।বাকি সময়টায় যা হলো, তাতে গোলের তালিকায় নেইমারেরও নাম লেখানো কিংবা সুয়ারেজের হ্যাটট্রিকের চেষ্টা। টুর্নামেন্টের অতীতে ইউরোপীয় দলগুলোকে বেশ ভোগানোর যে উদাহরণ আছে দক্ষিণ আমেরিকার; সেগুলোও ততক্ষণে ভুলে গেছে সবাই। অবশ্য রিভার সান্ত্বনার একটি গোল পেতেই পারত। ক্লদিও ব্রাভোর দুর্দান্ত সেভের পর পোস্ট হতাশ করেছে আর্জেন্টিনার ক্লাবটিকে।মেসি রুপালি বল পেয়েছেন, যা পেয়ে তিনি অভ্যস্ত নন। অবশ্য সোনালি বছরের শেষটা মেসি টেনে দিলেন, এক বছরে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে সাতটি টুর্নামেন্টেই গোল করার রেকর্ড নিয়ে। আর সামনে তো ব্যালন ডি’অরের সোনালি বলটা অপেক্ষা করছেই!
আর নেইমার? তিনি খুশি রইলেন দলের দুই গোলে অবদান রেখে, দলের সঙ্গে শিরোপা উল্লাস করতে পেরেই। চার বছর আগে এই মাঠেই বার্সেলোনার কাছে হেরে ক্লাব বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়েছিলেন। সেই স্মৃতি ফিরে এসেছিল কি না, কে জানে। তবে ট্রফি নিয়ে নেইমার যেভাবে আনন্দে লাফালেন, বয়সটা যে তাঁর বছর চারেক কমে গিয়েছিল তখন, সন্দেহ নেই!


