তথ্যপ্রযুক্তিসারাদেশসিলেট বিভাগস্পেশালস্বাস্থ্য

সদর হাসপাতালে টাকা দিলে ইনজেকশন মিলে!-বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীরে কাছে টাকা দাবী

জনতার ডাক:সিলেট নগরীর আখালিয়া খলাপাড়ার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নাজিম উদ্দিন। তাকে কুকুর কামড় দিয়েছে এক সপ্তাহে আগে। ২ মার্চ সিলেট সদর হাসপাতালে গিয়ে সে জলাতঙ্কের একটি ইনজেকশন (টিকা) দেয় ফ্রিতে।

নাজিম ডাক্তারের কথামতো শনিবার সকালে আসে দ্বিতীয় ইনজেকশনটি দিতে। এসময় হাসপাতালের স্টাফরা তাকে জানিয়ে দেয় ইনজেকশন শেষ হয়ে গেছে। তবে ৬শ’ টাকা দিলে ইনজেকশনের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। অথবা তার মতো ৩ জন রোগী একসঙ্গে এসে ২শ’ টাকা করে মোট ৬শ’ টাকা দিলে ইনজেকশন দেয়া হবে বলে জানানো হয়।

নাজিম বেলা দেড়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকে আরো দু’জন রোগীর। কিন্তু অন্য কোনো রোগী না আসলে হাসপাতালের স্টাফরা নাজিমকে বলেন- ‘আজ চলে যান, আগামীকাল আসেন। তিনজন রোগী মিলে ৬শ’টাকা দিয়ে ইনজেকশন দিতে পারেন কি-না দেখেন। এছাড়া আমাদের কিছু করা নেই।’ -এমন তথ্য দিয়েছেন- প্রতিবন্ধী নাজিম উদ্দিনের বাবা আবু সাহিদ।

তিনি কান্না জাড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলের প্রতিবন্ধী কার্ড রয়েছে। সেই কার্ড দিয়ে ২ মার্চ আমি সদর হাসপাতালে গিয়ে ইনজেকশন দিয়েছি। কিন্তু আজ হাসপাতাল স্টাফরা টাকা দাবি করায় ইনজেকশন না দিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে।

প্রতিবন্ধী রোগীকে সরকারি হাসপাতালে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা দেয়ার নির্দেশ রয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের। প্রতিবন্ধীরা হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে এলে রোগীর সারিতে দাঁড় করিয়ে না রেখে তাদের টিকিট দেয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেয়ার পর হাসপাতালে ভর্তিযোগ্য হলে শয্যার ব্যবস্থা করতে চিকিৎসক এবং কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত একজন সেবা প্রদানকারীকে হাসপাতালে রাখার কথা রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনা ব্যাপারে সারাদেশের সিভিল সার্জন ও বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা অবগতও আছেন।

এ ব্যপারে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান  বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য মন্ত্রনালয় থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেই নির্দশনা মেনেই আমারা তাদের চিকিৎসা সেবা দেই। তবে সিলেট সদর হাসপাতাল সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি তিনি। তিনি বলেন, সদর হাসপাতালের বিষয়টি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসাপতাল দেখভাল করে।

এদিকে, ওসমানী হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।3

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button