অপরাধসিলেট জেলা

সিলেটে জৈন্তাপুর উপজেলা হরিপুর বাজারে আ.লীগ নেতার দখলে সওজের জায়গা

সিলেটে জৈন্তাপুর উপজেলা হরিপুর বাজারে আ.লীগ নেতার দখলে সওজের জায়গা

সিলেটে জৈন্তাপুর উপজেলা হরিপুর বাজারে আ.লীগ নেতার দখলে সওজের জায়গা

 

জৈন্তাপুর থেকে :: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজারে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গায় দখল করে মহাসড়কের দু’পাশ আবারও অবৈধ দখলে চলে গেছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলা উদ্দিনের নেতৃত্বে সেখানে পাকা ও টিনশেড স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। মাত্র ছয় মাস আগে সেনাবাহিনীর সহায়তায় এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও আবারও তা দখল করা হচ্ছে।

এদিকে, অবৈধ দখলের বিষয়টি গণমাধ্যমে আড়াল করতে বার্তা২৪.কমের স্টাফ করেসপন্ডেন্টকে টাকা দেওয়ার (ঘুষ) প্রস্তাব করেছেন অভিযুক্ত ওই আওয়ামী লীগ নেতা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের কাপনা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে উত্তর দিকে প্রায় ৫০০ গজ অংশজুড়ে সড়কের দু’পাশের সরকারি জায়গা দখল করে পাকা ঘর ও টিনশেডের দোকানপাট নির্মাণ করা হচ্ছে। সওজ বিভাগের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কোনো কিছুর তোয়াক্কা করছেন না দখলদাররা।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত বছর উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যৌথ পরিচালনায় হরিপুর বাজার এলাকায় একটি বড় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়। এতে মহাসড়কে যানজট কমে এবং যাত্রী ও চালকদের মাঝে স্বস্তি ফেরে। কিন্তু সেই স্বস্তি ছয় মাসও টেকেনি। রাজনৈতিক আশ্রয়ের কারণে আগের দখলদাররাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলাউদ্দিনের ছত্রছায়ায় আবারও নতুন করে দোকানপাট নির্মাণ শুরু করেছে।

অভিযোগ উঠেছে, মহাসড়কের দু’পাশ দখল করে এসব দোকান ঘর বরাদ্দ দেওয়ার নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন।

অবৈধ দখলের বিষয়ে রোববার বিকেলে জানতে চাইলে জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন বলেন, পরগনার মুব্বিরা আমার আওতাধীন দুটি দোকানঘর মাংস ব্যবসায়ীদের ভাড়া দিয়েছেন। তারা বলেছেন আমাকে মাসে ৬ হাজার টাকা ভাড়া দেবেন।

একপ্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, আমি চার বছরপূর্বে একজনের কাছ থেকে দখল কিনেছি। কিন্তু এসবের কোনো কাগজপত্র নেই। শুধু আমি নয়, এভাবে আরও অনেকেই দোকান ভাড়া দিচ্ছে। একপর্যায়ে তিনি অবৈধভাবে দখলের বিষয়টি স্বীকার করেন।

একইদিন সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের  মুঠোফোনে কল দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আলা উদ্দিন বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চা-পানির জন্য টাকা দেওয়ার চেষ্টা (ঘুষের প্রস্তাব) করেন।

জানা যায়, সিলেট-তামাবিল মহাসড়কটি দিয়ে প্রতিদিন জাফলংগামী পর্যটকবাহী দূরপাল্লার বাস এবং হাজার হাজার পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। স্থানীয় সচেতন মহল ও যাত্রীরা আশঙ্কা করছেন, হরিপুর বাজারে যেভাবে আবারও অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে, তাতে দ্রুতই বাজার অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হবে এবং ছোট-বড় দুর্ঘটনা বহুলাংশে বেড়ে যাবে।

এবিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রাণী দেব বলেন, সরকারি জমি বা মহাসড়কের জায়গা দখল করে কোনো অবৈধ স্থাপনা রাখতে দেওয়া হবে না। আমরা খুব শীঘ্রই হরিপুর বাজারে একটি বড় ধরনের সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করব। যারা এই অবৈধ দখলের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এব্যাপারে সিলেট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button