সুদীপের আত্মহত্যা : ফেঁসে যাচ্ছেন ওসি জলিল (আপডেট)


জনতার ডাকঃ
বিশেষ প্রতিনিধি : গোয়াইনঘাট থানার ওসি আব্দুল জলিলের বাড়ি টাংগাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলায়। তিনি বর্তমানে সিলেটের গোয়াইনঘাট থানায় কর্মরত আছেন। সিলেট রেঞ্জের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৮ বছর থেকে চাকুরী করছেন। একের পর এক বির্তকৃত কর্মকান্ড করলেও তদবীরের ঠেলায় বরাবরই বেঁচে যান। কর্মস্থলে তার রয়েছে বির্তকৃত কর্মকান্ডের নানা রকম অভিযোগ। যেই থানায় ওসি জলিল চাকুরী করেছেন, সেখানেই তিনি নিজেই সাধারণ মানুষের মাঝে সৃষ্টি করেছেন আতঙ্ক। ২০১৪ সালে জৈন্তাপুর থানায় চাকুরিকালীন অবস্থায় থাকাবস্থায় ওসি জলিলের বিরুদ্ধে ছিলো থানা হাজত থেকে আসামী ছেড়ে দেওয়া, অফিসারদের সাথে খারাপ আচরণ, নারী কেলেংকারীসহ নানা অভিযোগ। চিকনাগুল বাজারের একটি ঘটনা আর নারী কেলেংকারীর অভিযোগে তাকে ষ্ট্যান্ড রিলিজ করা হয় জৈন্তাপুর থানা থেকে। ২০১৮ সালের ২৭ মে গোয়াইনঘাট থানায় তিনি যোগদানের আগে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানা থেকে তাকে সুনামগঞ্জ জেলায় বদলী করা হয়। সেখানে চাকুরী করেন দিরাই থানার ওসি হিসাবে। সেই থানায়ও একই রকম অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। সেখান থেকে তাকে রেঞ্জের সিলেটে আবার বদলী করা হয়। সেখান থেকে তদবীরের ঠেলায় পোষ্টিং হয় গোয়াইনঘাট থানায়। সেখানে যোগদানের পর তিনি গড়ে তোলেন নিজস্ব সিন্ডিকেট। হাদারপার এলাকার আব্দুল্লাহ জাফলং মামারদোকান এলাকার সেলিম আর তার ছোট ভাই আলিম উদ্দিনের মাধ্যেমে গড়ে তুলেন চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। জলিলের হয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন থানার প্রভাবশালী দারোগা জুনেদ আহমদ। ওসি আর তার বিশ্বস্থ্য দারোগার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েন থানার সকল পুলিশ সদস্য। জেলার উর্ধ্বতন অফিসারদের তেমন একটা গুরুত্ব দিতেনা তিনি, কারণ রেঞ্জ ডিআইজি কামরুল আহসানের সাথে তার রয়েছে গভির সম্পর্ক। ওসি আব্দুল জলিল থানায় যোগদানের পর তিনি এক নারী কনস্টেবলকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে ওই নারী কনস্টেবল ওসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাকে জেলা পুলিশ লাইনে বদলি করা হয়। সিলেট-৪ আসনের সাংসদ ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদকে খুশি করতে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি রাতে তাঁর বাসায় ট্রাক ভর্তি উপঢৌকন পাঠান ওসি জলিল। পরে মন্ত্রী নিজেই এসব উপঢৌকনের বিষয়টি নিয়ে হাটে-হাড়ি ভাঙ্গেন, নড়েচড়ে বসেন পুলিশের উর্ধ্বতন মহল। সর্বশেষ শনিবার বিকালে তার দুর্ব্যবহার সইতে না পেরে সুদীপ বড়–য়া নামে থানার একজন সৎ পুলিশ অফিসার আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় সুদীপের পরিবার ওসি আব্দুল জলিল ও দারোগা জুনেদ আহমদকে আসামী করে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর সুদীপের লাশ ময়না তদন্ত শেষে তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার সোনাইচড়ি গ্রামের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এদিকে সুদীপের স্ত্রী ববি বড়–য়া অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী সুদীপ হত্যা বিচার চাই। ওসি জলিলের জন্য আমার স্বামী আত্মহত্যা করেছে। তারা সুদীপ হত্যার বিচার চেয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সুদীপের মেয়ে শতাব্দি বলেন,‘থানায় মানসিক চাপে বিপর্যস্ত হয়ে’ বাবা আত্মহত্যা করেছেন,‘বাবা প্রায়ই ফোন করে বলতেন। সর্বশেষ শনিবারও বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি তখনও বলেছেন, এ থানায় তিনি আর থাকতে চান না। এদিকে, এসআই সুদীপের আত্মহত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সিলেটের পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে সুদীপের পরিবার আইনি আশ্রয় গ্রহণ করলে তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে ওসি আব্দুল জলিল মামলার বিষয়টি বুঝতে পেরেই নিজেকে বাঁচানোর জন্য তদবীর শুরু করে দিয়েছেন। কারণ পুলিশের উপর মহলের কিছু কর্তাব্যক্তির সাথে রয়েছে সু-সম্পর্ক। এদিকে সুদীপের আত্মহত্যা বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তিনি কোয়ার্টারের ঘরের জানালার সাথে ঝুলে কি করে আত্মহত্যা করতে পারেন। কারণ সুদীপের দুটি হাতই জানালার লোহার রডের সাথে রয়েছে। থানা কম্পাউন্ডের ভিতরে কি করে একজন এসআই আত্মহত্যা করতে পারে তাও দিনে দুপুরে, থানার কনেষ্টবল কিংবা বাকি এসআইরা কোথায় ছিলো?



