

এমডি ইকবাল (কুমিল্লা):
কুমিল্লায় হত্যা ও নাশকতার দুই মামলায় ছয় মাসের জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এছাড়া নড়াইলে মানহানির একটি মামলায় জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। সোমবার বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লায় হত্যা, বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতা ও নড়াইলে মানহানি মামলায় জামিন শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে আদেশের জন্য আজ সোমবার দিন ধার্য করেন আদালত।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা জানান, নাশকতার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ও বাস পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় করা দুটি ছয় মাসের জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। মানহানির অভিযোগে নড়াইলে করা এক মামলায় জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। সেই দিন থেকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় করাগারে রয়েছে তিনি। ওই মামলায় আপিলের পর খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। ১৭ মে এ আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত খালেদা ওই মামলাটিতে আপিল করে জামিন নিলেও বিচারাধীন কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোয় তার মুক্তি আটকে আছে।
কুমিল্লা ও নড়াইলের তিনটি বাদে আরও দুটি মামলায় জামিন চেয়ে খালেদা জিয়া হাই কোর্টে আবেদন করেছেন। সেগুলো এখনও শুনানিতে আসেনি।
কুমিল্লার হত্যা মামলাটি অবরোধের মধ্যে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় একটি নৈশকোচে পেট্রোল বোমা হামলায় আট যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হয়। চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান পরদিন খালেদাকে হুকুমের আসামি করে মামলা করেন।কুমিল্লার বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলাটিও নাশকতা নিয়ে।
অবরোধের মধ্যে ওই বছরের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রামে একটি কভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। পরে ওই দিনই চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়।
২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ওই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। তাতে খালেদা জিয়াসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়। কুমিল্লার এ দুটি মামলায়ই বিএনপি চেয়ারপারসনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
নড়াইলের আদালতে খালেদার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাটি দায়ের করা হয় শহীদদের সংখ্যা নিয়ে ‘বিরূপ মন্তব্য’ করার অভিযোগে।নড়াইল জেলা পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও নড়াগাতি থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান ফারুকী ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর এ মামলা দায়ের করেন।



