সিলেট বিভাগ

জামালগঞ্জের পাকনার হাওরে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধে কৃষকরা

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার পাকনার হাওরের ডালিয়া স্লুইচ গেইটে থেকে প্রায় ৭ কিলো মিটার আফর বাঁধ রক্ষায় প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে হাওরপাড়ের কৃষকরা।

গাজিয়ারগাও-করাতিয়া বাঁধে মধ্যবর্তী ৩ টি অংশ দিয়ে বিছিন্নভাবে পানি ঢুকছে হাওরে। গত বৃহস্পতিবার রাতে থেকে একটানা প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ে বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ায় হাওরের পানি আটকাতে প্রতিদিনের মতো আজো হাওরপাড়র বেশ কয়েটি গ্রামের সহস্ত্রাধিক কৃষক স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছে বাঁধে।

শুক্রবার সহস্ত্রাধিক কৃষক বাঁধে কাজ করায় এখনো নিয়ন্ত্রনে থাকলেও ঝুকিপূর্ণ রয়েছে। যে কোন মূহুর্তে বাঁধ ভেঙ্গে ফসল তলিয়ে যাবার আশংকা করছে কৃষকরা। পাকনার হাওরের অধীনস্থ ফেনারবাক, ভীমখালী ও জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কৃষকেরা বাঁধ রক্ষার জন্য মিছিল, মিটিং এর মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাঁধ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে সহস্রাধিক লোক বাঁশ, বস্তা, দাড়ি, উরা, কোদাল সহ বাঁধ রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা করছে কৃষকরা। প্রায় ২০ দিন যাবৎ কৃষকরা বাঁধ রক্ষায় দিন-রাত পরিশ্রম করেও ঝুকিপূর্ণতা ঠেকাতে পারছেন না।

শুক্রবার সরজমিনে পাকনার হাওরে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা প্রশাসন থেকে বাঁশ, বস্তা, দাড়িসহ পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী লোকবল থাকা সত্বেও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মোষলধারে বৃষ্টি হওয়ার কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বাঁধটি। টানা বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে কাজ করতে পারছেনা বাঁধে হাজারও লোকজন।

ফেনারবাক ইউপি চেয়ারম্যান করুণা সিন্দু তালুকদার সহ ইউপি সচিব অজিত কুমার রায়, সাংবাদিক, বিভিন্ন গ্রামের লোক স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে প্রাণপণ চেষ্টা করার পরও প্রকৃতির কাছে অসহায় হয়ে পড়ছে হাওরপাড়ের কৃষকরা।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার শ্রীকান্ত তালুকদার বলেন, আমাদের হাওরের বেরী বাঁধের প্রকল্প চেয়ারম্যান হয় দিরাই থানাধীন রফিনগর ইউনিয়নর চেয়ারম্যান মেম্বার। প্রতি বছরেই বাঁধে সমস্যা দেখা দিলে তাদের খুজে পাওয়া যায় না। দায়সারা কাজ করে পুরো বাঁধটিকে ঝুকিপূর্ণ রেখে তারা উধাও হয়ে যায়। প্রতিবারেই হাওর রক্ষার স্বার্থে জামালগঞ্জের হাজার হাজার কৃষক স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষা করেন। তাই আমাদের হাওর রক্ষা বাঁধের প্রকল্প পিআইসি জামালগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান মেম্বারদের দিয়ে করানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি।

জানা যায়, পূর্বে ফুলিয়াটানা থেকে ডালিয়া স্লুইচ গেইট পর্যন্ত ৮ কি:মি: বেরী বাঁধ ফেনারবাক ইউনিয়নের অর্ন্তভূক্ত ছিল। রফিনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পাউবোর সাথে আতাত করে এই অংশটুকুকে দিরাই থানাধীন নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে ফেনারবাক ইউপি চেয়ারম্যান করুণাসিন্দু তালুকদার বলেন, ২০ দিন যাবৎ হাওরপাড়ের বিভিন্ন গ্রামের লোকজন সহ উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় আপ্রাণ চেষ্টা করে বেরী বাঁধগুলা রক্ষা করা গেলও দিরাই থানাধীন পাউবো-পিআইসিদের প্রায় ৮ কি:মি: জায়গা আফর দিয়ে উপচে পানি প্রবেশ করছে। টানা ৭ দিন যাবৎ চেষ্টা করেও কোন রকম টিকিয়ে রাখা হয়েছে।

উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজা আক্তার দিপু বলেন, বাঁধ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সহ বিশেষ করে ফেনারবাক ইউপি চেয়ারম্যান করুণা সিন্দু তালুকদার ও সহস্ত্রাধিক লোকজন প্রতিদিন কাজ করে এখনো পর্যন্ত রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। আকাশ ভাল থাকলে আগামী দিনও যদি লোকজন বাঁধে কাজ করে তাহলে ৫০ ভাগ ধান কৃষক ঘরে তুলতে পারবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসুন কুমার চক্রবর্তী বলেন, পাকনার হাওরের বাঁধ রক্ষার জন্য উপজেলা প্রশাসন সব রকমের সহযোগীতা করে যাচ্ছে এবং যদি প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে কাটিয়ে উঠতে পারে তাহলে ৮০ ভাগ ফসল কৃষক ঘরে তুলতে পারবে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button