সিলেট বিভাগ

শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে যৌন হয়রানির শিকার রাঁধুনি

 

 

ডেস্ক :শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে যৌন হয়রানি ও অশ্লীল আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ঔ কেন্দ্রের এক নারী কর্মচারী।

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের রাঁধুনি মমতা বেগম। কেন্দ্রের উপ-পরিচালক নূরে আলম সিদ্দীকির বিরুদ্ধে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।

নগরীর ৩৪ কুয়ারপাড় প্রয়াত বাছন মিয়ার স্ত্রী মমতা বেগম সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং কর্মচারী হিসেবে রাঁধুনি পদে ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে নিয়োগ পান। কাজ করার কিছুদিন পর তার উপর কু নজর পড়ে প্রতিষ্ঠানের উপপরিচালক নূরে আলম সিদ্দিকীর। বিভিন্ন সময়ে কু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২৭ আগস্ট তিনি আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় তিনি আমার জীবননাশসহ বিভিন্ন ধরণের ক্ষয়ক্ষতি করবেন বলে ভয়ভীতি দেখান। পরে আমাকে চাকরীচ্যুত করা হয়। তারপর প্রতিষ্ঠানে থাকা আমার শিশু কন্যা আশা (১১) ও বোন ফৌজিয়া (১২) কে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

এ ঘটনায় শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়। যার নম্বর ৫০৯। সাধারণ ডায়েরীর প্রেক্ষিতে শাহপরান থানা পুলিশ তদন্ত করে ২১ অক্টোবর সিলেট অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদলতে প্রতিবেদন দাখিল করে। যার শুনানি আদালতে ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি হয়। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মমতা বেগম আরো বলেন, যৌন হয়রানী ও চাকরীচ্যুত হয়ে আদলতে বিচারপ্রার্থী হয়েও অসহায় বোধ করছি। প্রতিনিয়ত নূরে আলম সিদ্দিকী আমাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনে থাকা আমার মেয়ে ও বোনের সাথে যোগাযোগ করতে দিচ্ছে না । তাদের পড়ালেখাও বন্ধ করে দিয়েছে। বছরের শুরুতে প্রতিষ্ঠানে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি করছে না। যারা প্রতিষ্ঠানে আছে তাদে পড়ালেখা বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের জীবন এখন হুমকির সম্মুখীন।

মমতা বেগম শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের সুষ্ঠু পরিবেশ ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button