সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্ঠা মেম্বার জলিলের

প্রতারণার মাধ্যমে জলিল মেম্বার আমাদের সম্পত্তি আত্মসাত করেছেন আপন চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক ভাবে সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন এক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। সম্প্রতি (২৫মার্চ) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের দোস্তপুর গ্রামের হাজী নছিব আলীর পূত্র মোহাম্মদ আব্দুল হক। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তার আপন চাচাতো ভাই আব্দুল জলিল (পিতা- মিছির আলী) ইউপি সদস্য আব্দুল জলীল তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ও পারিবারিক ৩টি ফান্ড দেখা শোনা করতেন। চাচাতো ভাই হওয়ার কারণে বিশ্বাস করে কোন ধরনের লিখিত ডকুমেন্ট ছাড়াই তারা তাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আর এই সুযোগে আব্দুল জলিল মেম্বার তাদের প্রায় ৬০ লাখ টাকার সম্পত্তি বিক্রী ও আত্মসাত করেছেন। তিনি জানান, আমি এবং আমার ভাইরা প্রবাসে থাকার কারণে আব্দুল জলীল মেম্বারকে আমাদের সম্পদ দেখাশোনার দায়িত্ব দেই। এই সুযোগে সে জাল দলিল তৈরির মাধ্যমে কুবাজপুর মৌজার আমাদের নামীয় ২৩৮১ দাগের ২ শতক দোকান ভিটা জনৈক সিদ্দিক আলীর নিকট বিক্রয় করিয়া প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। তিনি বলেন, ধূর্ত আব্দুল জলিল আমাদের মালিকানাধীন ৪২০ নং দাগের ২০ শতক বাড়িয়াল ভূমি ও ৪২১ নং দাগের ২৯ শতক বাড়িয়াল ভূমি গোপনে আমাদের রেকর্ড থেকে কাটাইয়া তাদের নামে রেকর্ড করিয়ে নেয়। এই ৪৯ শতকের সাথে শিবগঞ্জ বাজারের ২ শতক ভূমি বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। আমাদের এত দামি সম্পদ আত্মসাত করায় আমরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন। আব্দুল হক জানান, জলিলের জালিয়াতি ও প্রতারণার সংবাদ পেয়ে ২০১৬ সালে দেশে আসি এবং তাকে এ ব্যপারে জিজ্ঞেস করলে সে অস্বীকার করে। আমাদের পারিবারিক ৩ ফান্ডের আরও ৮ লাখ টাকা তার কাছে জমা ছিল। সেগুলো ফেরত চাইলেও সে আমার সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে। আমি মানসীকভাবে অসুস্থ হয়ে আবার আমেরিকা ফিরে যাই। পরে আমার অন্যান্য ভাইবোনদের অনুমতি নিয়ে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসি। আমাদের পৈত্রিক সম্পদ রক্ষায় আব্দুল জলিলের প্রতারণার উদ্দেশ্যে সৃস্ট দলিলগুলোর নামজারি মোকদ্দমা নং ৭৭৮/০৭-০৮ এবং নামজারী মোকদ্দমা নং ১২৬৩/০৮-০৯ জগন্নাথপুর ভূমি অফিসের সহকারি কশিনার অফিসে নামজারী বাতিলের আবেদন করি। নামজারীর রিভিউ মোকদ্দমার প্রেক্ষিতে সহকারি ভূমি কমিশনার, সৃষ্ট ২৯০৬ নামজারী খতিয়ান বাতিল করে সাবেক ৩৪৮ নং খতিয়ান বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এসব বিষয় আমি মানবাধিকার সংগঠন ও সুনামগঞ্জের প্রবাসী কল্যান কেন্দ্রে অভিযোগ করলে তারা তদন্ত করে সত্যতার প্রমাণ পেয়েছেন। এসব কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুল জলিল মেম্বার আমাকে নানা অপবাদ ও হুমকী ধমকী দিচ্ছে। এমনকি সে আমাকে জঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে মামলায় জড়ানোর পাঁয়তারাও করছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি। তাছাড়া তার লাঠিয়াল বাহিনীও আমার উপর যেকোন সময় আমার উপর আক্রমন করতে পারে। এ আতংকজনক অবস্থায় আমার ২ ভাগনা, খালাতো ভাই ও বেয়াইকে সাথে নিয়ে আমাকে সার্বক্ষনিক চলাফেরা করতে হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল হক আরও জানিয়েছেন যে জলিল মেম্বার বর্তমানে ঐ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হওয়ায় তিনি গ্রাম্য বিচার ও সালিশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ অস্থায় জালিয়াত চক্রের মুখোশ উন্মোচনের মাধ্যমে তাদের যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসন, সাংবাদিক এবং সর্বস্তরের সচেতন মানুষের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।



