সিলেটের লিডিংসহ তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে ইউজিসি


সিলেট, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৫ :: সাত বছরের বেশি সময় ধরে অস্থায়ী ঠিকানায় ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে এমন ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তথ্য চেয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এর মধ্যে ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য দিলেও সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটিসহ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের তথ্য প্রদান করেনি। বাকি দুই বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিটি ইউনিভার্সিটি। ফলে এ তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ইউজিসি সূত্র জানিয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ১৩ আগস্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে বলেছিলেন, যেসব বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি অথবা আংশিক যেতে পেরেছে তাদের সার্বিক অবস্থা রিপোর্ট আকারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে জমা দিতে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার ১২ দিন পরও ইউজিসিকে কোনো তথ্য দেয়নি সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটি, ঢাকার অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিটি ইউনিভার্সিটি।
ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগ সূত্র জানায়, শিক্ষামন্ত্রী ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের ক্যাম্পাস পরিস্থিতির সার্বিক পরিস্থিতি রিপোর্ট আকারে জমা দিতে বললেও অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয় কোনো তথ্য না দিয়ে গৎবাঁধা বিভিন্ন রিপোর্ট পাঠায়। পরে ছয়টি প্রশ্নসংবলিত একটি চিঠি ৩৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায় ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগ।
চিঠিটিতে জানতে চাওয়া হয়েছে নিজস্ব ক্যাম্পাসের স্থায়ী অবস্থান ও পরিমাণ, অবকাঠামো (বর্গফুটে), নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে পরিচালিত শিক্ষা কার্যক্রম (শতকরা), স্থায়ী ক্যাম্পাসে কী কী প্রোগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে, সেপ্টেম্বর ‘১৫-এর মধ্যে কত শতাংশ শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়েছে এবং পুরোপুরিভাবে ক্যাম্পাস স্থানান্তরের জন্য চাহিত সময়।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পরিচালক মখলেছুর রহমান জানান, গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৬টি ক্যাম্পাসের অবকাঠামোর সার্বিক চিত্র ইউজিসিতে জমা দিয়েছে। অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, লিডিং ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটি কোনো তথ্যই জানায়নি।
জানতে চাইলে মখলেছুর রহমান বলেন, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বিদেশে আছেন। তিনি বুধবার (আজ) দেশে ফিরবেন। তিনিই এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
প্রসঙ্গত, সাত বছরের বেশি সময় ধরে ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে ৫০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এদের ১১টি পুরোপুরি নিজস্ব ক্যাম্পাসে গেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনের অন্যতম শর্ত হচ্ছে সাত বছরের মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে হবে।



