জৈন্তাপুরে টাস্কফোর্সের যৌথ অভিযানঃ ৭৩ বার্কি নৌকা ধ্বংস, ৮ হাজার ৪৮৬ ঘনফুট বালু জব্দ
জৈন্তাপুরে টাস্কফোর্সের যৌথ অভিযানঃ ৭৩ বার্কি নৌকা ধ্বংস, ৮ হাজার ৪৮৬ ঘনফুট বালু জব্দ


জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধিঃ সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে টাস্কফোর্স। অভিযানে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ৭৩টি বার্কি নৌকা জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৮ হাজার ৪৮৬ ঘনফুট বালু জব্দ করে স্পট নিলামের মাধ্যমে ১ লাখ ৪২ হাজার ১০৮ টাকা আদায় করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত উপজেলার রাংপানি নদী ও শ্রীপুর পাথর কোয়ারি এলাকায় এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জৈন্তাপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার সুনন্দা রায়। একই সাথে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ, আনসার এবং বিজিবির শ্রীপুর ও মিনাটিলা বিওপি সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেন। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রাংপানি নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত প্রায় ৭৩টি বার্কি নৌকা জব্দ করে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। ধ্বংস করা নৌকাগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকা। অভিযানকালে বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে স্তুপ করে রাখা বালুও জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা বালু তাৎক্ষণিকভাবে স্পট নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে রাংপানি নদীর আদর্শগ্রাম ঘাটে ১ হাজার ৫২০ ঘনফুট এবং শ্রীপুর কোয়ারি এলাকায় ৬ হাজার ৯৬৬ ঘনফুটসহ মোট ৮ হাজার ৪৮৬ ঘনফুট বালু নিলামে তোলা হয়। নিলামের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ১০৮ টাকা আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব হিসেবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাবদ ২১ হাজার ৩১৬ টাকা এবং ১০ শতাংশ আয়কর বাবদ ১৪ হাজার ২১০ টাকা আদায় করা হয়। নিলামের অর্থসহ প্রযোজ্য কর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযান শেষে রাংপানি নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল সরঞ্জাম ও কার্যক্রম আগামী এক দিনের মধ্যে নিজ দায়িত্বে অপসারণের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। এদিকে রাংপানি নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে যৌথ মতবিনিময় সভার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। আগামী শনিবার বিকেল ৪টায় পুলিশ, বিজিবি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, বার্কি শ্রমিক ও পরিবহন শ্রমিকদের অংশগ্রহণে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধে এ ধরনের টাস্কফোর্স অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান ইউএনও।



