জাফলং সীমান্ত মান্নান মেম্বার–লোকমানের নেতৃত্বে শক্তিশালী সিন্ডিকেট, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ
জাফলং সীমান্ত মান্নান মেম্বার–লোকমানের নেতৃত্বে শক্তিশালী সিন্ডিকেট, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ

জনতার ডাক : সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অব্যাহত চোরাচালান কার্যক্রমে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা সাদ্দাম রুহির ছেলে মান্নান আহমদ (মান্নান মেম্বার) এবং তার ভাই লোকমানের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী চোরাচালান সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত জাফলং জিরো পয়েন্ট, সিড়িঘাট, সাইনবোর্ড, লালমাটি, আমতলা, সোনাটিলা, তামাবিল স্থলবন্দর, আমস্বপ্ন ও নলজুরি—এসব অঞ্চল ব্যবহার করেই চোরাচালানের প্রধান রুট গড়ে তোলা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশেষ করে জাফলংয়ের লালামাটি এলাকা হয়ে ভারত সীমান্ত ঘেঁষে রাতের আঁধারে নিয়মিতভাবে কম্বল, কসমেটিকস, চিনি, জিরা, কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশ করানো হচ্ছে। এসব পণ্য প্রথমে লোকমানের দোকান ও আশপাশের কয়েকটি গুদামে মজুদ করা হয়। পরে সেখান থেকে স্থানীয় ও আশপাশের বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীরা জানান, সীমান্তের একেবারে কাছেই বিজিবি ক্যাম্প থাকা সত্ত্বেও চোরাচালান কার্যক্রম প্রায় নির্বিঘ্নে চলমান রয়েছে। একাধিকবার চোরাচালানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে করে সিন্ডিকেটটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী হওয়ার কারণে মান্নান মেম্বার ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এর ফলে একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে সীমান্ত এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মান্নান মেম্বার, তার ভাই লোকমানসহ সংশ্লিষ্ট চোরাচালান সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় সীমান্ত এলাকায় অপরাধ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।



