সিলেট জেলা

দুই হাত হারিয়েও পা দিয়ে লিখে দাখিল পাস করল আশরাফ একটি কর্মসংস্থানই হতে পারে তাঁর নতুন জীবনের পথচলা

দুই হাত হারিয়েও পা দিয়ে লিখে দাখিল পাস করল আশরাফ একটি কর্মসংস্থানই হতে পারে তাঁর নতুন জীবনের পথচলা

দুই হাত হারিয়েও পা দিয়ে লিখে দাখিল পাস করল আশরাফ একটি কর্মসংস্থানই হতে পারে তাঁর নতুন জীবনের পথচলা
জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি ঃ সিলেটের জৈন্তপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের পানিছড়া গ্রামের আশরাফ মো. আলী হোসেনের দুটি হাত না থাকলেও থেমে নেই তার অধ্যয়ন, পা দিয়ে লিখে জয় করেন ২০২৬ সালের এসএসসি (দাখিল) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ২.৭৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এখন তাঁর স্বপ্ন, অন্য সাধারণ ছাত্রদের মত স্বাভাবিক ভাবে পড়া-শোনা করা এবং পরিবারের হাল ধরা। এজন্য আশরাফ চায় সকলের ভালবাসা এবং সহযোগিতা। কার বোঝা না হয়ে একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ চায় আশরাফ।
আশরাফ মো. আলী হোসেন উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের পানিছড়া গ্রামের খলিল আহমদ এবং মা মোছা. আমিনা বেগম ছেলে। তিনি সিলেটের খাদিম চান্দু শাহ্ জামিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে এ বৎসর দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে দাদির সঙ্গে কানাইঘাটে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান আশরাফ। সেখানে একটি দুইতলা ভবনের ছাদ থেকে অসাবধানতাবশত পড়ে যাওয়ার সময় বাঁচার জন্য তিনি ১১ কেভি বৈদ্যুতিক লাইনের তার ধরে ফেলেন। এতে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁর দুই হাত মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে, জীবন রক্ষার্থে হাত দুটি কেটে ফেলতে হবে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর দুই হাত কেটে ফেলা হয়। দুই হাত হারানোর পরও আশরাফ হাল ছাড়েননি। শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে পাশ কাটিয়ে পা দিয়ে লিখে লেখাপড়া চালিয়ে যান। অবশেষে এবারের দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিজের অদম্য মনোবলের প্রমাণ দিয়েছে। আশরাফের দৈনন্দিন কর্মকান্ড পরিচালনায় তাঁর গর্ভধারিণী মা-ই এখন প্রধান ভরসা। তিনি হাঁটাচলা করতে পারলেও বিভিন্ন কাজে সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তাই মা কোতাও বেড়াতে গেলে সঙ্গে তাকে আশরাফ। লেখাপড়ার জন্য মাদ্রাসায় যাতায়াতের সময়ও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। আক্ষেপ করে আশরাফ বলেন, “আমি হাঁটাহাঁটি ও চলাফেরা করতে পারি কিন্তু লেখাপড়া করতে মাদ্রাসায় যাওয়ার সময় অনেকেই আমাকে অবহেলা করে গাড়িতে তুলতেন না। আমার সঙ্গে একজন সহকারী না থাকলে অনেক সময় চলাফেরা করা সম্ভব হতো না। সব প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে আমি জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি, আমি চাই অন্য সাধারণ ছাত্রের মত পড়া-শোনা করে সুস্থ মানুষের মতো জীবনযাপন করতে। নিজের পরিবারের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে আশরাফ আরও বলেন, “আমার বাবা একজন নিম্ন আয়ের মানুষ। আমার চিকিৎসার পেছনে তিনি সর্বস্ব হারিয়েছেন। কিছুদিন আগে আমার বড় ভাইও রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। দুই ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে বাবা নিঃশ্ব হয়ে গেছেন। এখন আমি পরিবারের হাল ধরতে চাই, আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে সরকার যদি আমাকে একটি চাকরি দেন তাহলে পরিবারকে একটু হয়েও সহযোগিতা করতে পারব। এ বিষয়ে সে সরকার প্রধান এবং সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপির সুদৃষ্টি কামনা করেন।
চিকনাগুল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনায় পরিবারটি আজ অসহায় জীবনযাপন করছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হলেও সবাইকে এ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button