সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি


সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি
জনতার ডাক :গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
একইসঙ্গে জেলার গোয়াইনঘাট কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলসমূহ প্লাবিত হয়েছে।
শহরের কোথাও এখনো কোনো বাসায় পানি উঠেনি। তবে এরকম বৃষ্টি ও উজান থেকে পানি আসলে বন্যা হতে পারে বলছেন স্থানীয়রা।
সিলেট – জাফলংগামী মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পানি উঠেছে যা ২০২২ বন্যায় ও উঠেনি। তবে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি।
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় ফেরিঘাট এলাকার সাজিদুর রহমান সাজন নামে এক যুবক বন্যার পানিতে আটকা পড়ে বুধবার রাত ১০ টার দিকে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন – ‘আমি দৌলা চেয়ারম্যান অর ভাতিজা দিলু মিয়ার পোয়া, বাড়ি ফেরিঘাট, আমরারে কেউ বাঁচাও, আমরার মরণ সামনে, কেউ বাঁচাও আমরারে, মা ভাই লইয়া আটকিগেছি।
সেই পোস্ট দেওয়ার কারো কোনো সহযোগিতা না পেয়ে ১ঘন্টা পর রাত ১১ টার দিকে আবার লিখেন, ” লাশ উদ্ধার অইমু হয়তো, জীবিত উদ্ধার অইতে পারতাম না, হয়তো এইটা শেষ পোস্ট”।
গোয়াইনঘাট উপজেলার লাবু গ্রামের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মারজিয়া বেগম বলে,” এবারের বন্যায় আমাদের সবকিছু নষ্ট করে দিয়েছে। বই খাতা ব্যাগ পানিতে ভিজে একেবারে খারাপ হয়ে গেছে”।
ফোনে কথা হয় গোয়াইনঘাট সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানী সমুন বলেন,” আমার ইউনিয়নের প্রায় সব ঘরবাড়ি পানির নিচে। আমার ইউনিয়নে ৩ টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। আমরা নৌকা দিয়ে তাদেরকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসতেছি। আমাদের উদ্ধার কাজ চলতেছে। আমরা তাদের জন্য শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করছি। প্রায় স্কুল কলেজ পানির নিচে চলে গেছে স্কুল বন্ধ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কাজ চলমান থাকবে। আমাদের জন্য দোয়া করবেন সবাই”।
একই ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ময়ূর মিয়া বলেন, “বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ার আগে থেকে আমরা সবাইকে সচেতন করেছি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত ছিল। এখন গতকাল থেকে পানি বাড়তে শুরু করে। আমরা সবাইকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে বন্যার পানির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে”।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুল ইসলাম জানান, ” উপজেলার ৭০ ভাগের বেশি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি মেম্বারদের সমন্বয়ে স্থানীয় ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। পানি বন্দী মানুষকে উদ্ধারে জাফলং পর্যটক ঘাটের দেড় শতাধিক নৌকা এবং প্রতিটি ইউনিয়নের স্থানীয় নৌকা সমূহ ব্যবহার হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে আনুমানিক ২৫০ টি পরিবার। বন্যা দুর্গত বিপুল সংখ্যক জনগণ নিকটস্থ আত্মীয়-স্বজনের নিরাপদ উঁচু স্থাপনাতেও আশ্রয় নিয়েছেন”।



