রাজনীতিতে কি চাইছেন সিলেট ছাত্রলীগের সাবেক ৯ নেতা?


পদহীন অবস্থায় অনেকটা অলস সময় কাটাচ্ছেন সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের গুরুত্বপুর্ণ পদে থাকা সাবেক ৯ নেতা। এ বছরের জুলাই মাসে সম্মেলনের মাধ্যমে সিলেট মহানগর এবং গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠিত হয়। এরপর থেকেই ছাত্রলীগের সাংঠনিক কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকছেন পদহীন এসব নেতারা। আর ছাত্রলীগ ছাড়ার পর আর কোন সংগঠনের পদ-পদবী নিজেদের নামের পাশে লাগাতে না পারায় ঘরে বসেই দলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন একসময়ের রাজপথ কাঁপানো নেতারা। সিলেট ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের অনেকেরই ভবিষ্যতে লক্ষ্য যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হওয়া। তবে তাদের একেক জনের পরিকল্পনা একেক রকম।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বে থাকা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাইম হাসান বলেন, ছাত্রজীবন জীবন শেষ হয়ে যাওয়ায় ছাত্ররাজনীতি থেকেও অবসর নিয়েছি। এখন পরিবার, ব্যাবসা-বাণিজ্য নিয়েই সময় কাটছে। ভবিষ্যতে দলের সিনিয়র নেতারা যে দায়িত দেন, সেই দায়িত্ব পালনে আমি প্রস্তুত।
মহানগর ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি রাহাত তরফদার জানান, মহানগর ছাত্রলীগের দায়িত্ব ছাড়ার পর সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার। তবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যদি তাকে কোন দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে তিনি নির্দ্বিধায় সেটি পালন করবেন।
মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমরুল হাসান বলেন, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হয়ে নয়, মুজিব আদর্শের একজন কর্মী হয়ে রাজনীতির মাঠে থাকতে চাই। ইচ্ছা আছে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হওয়ার, তবে পদ নিয়ে বিশেষ আগ্রহ নেই। পদ না পেলেও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখব।
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি এমদাদ রহমান বলেন, ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার পর বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবকলীগের কার্যক্রমে নিজেকে যুক্ত রেখেছি। সদ্য গঠিত সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পদপ্রার্থী ছিলাম। তবে কাঙ্খিত পদ না পাওয়ায় হতাশ নই। জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটিতে একজন মাঠকর্মী হিসেবে যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে সেই প্রত্যাশা করছি।
মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শেখ আবুল হাসনাত বুলবুল বলেন, ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে অবসর নিলেও রাজনীতির মাঠে আমি সর্বদাই আছি। কোন পদে না থাকলেও একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে মুজিব আদর্শে কাজ করে যাবো। তিনি জানান, বর্তমানে সিলেট আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার সাথে কাজ করছেন। তারা যদি যোগ্য ভেবে তাকে কোন পদের দায়িত্ব দিতে চান তবে তিনি সেটি গ্রহণ করবেন।
মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক আরেক সহ-সভাপতি মইনুল ইসলাম ফয়সাল জানান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক কমিটি মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে তাকে কেন্দ্রীয় সদস্য করে। তাই তিনি মনে করেন এবারের কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ হলে তাকে যথার্থ মূল্যায়ন করা হবে। এটাই তিনি আশা করেন।
মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মইনুল হক ইলিয়াছি দিনার বলেন, আমি ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি। সিলেটে আসন্ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের পুর্ণাঙ্গ কমিটিতে যথার্থ মুল্যায়ন প্রত্যাশী বলে জানান তিনি।
সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক ও সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন খান বলেন, আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় সিলেট মদন মোহন কলেজ থেকে। মদন মোহন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বশেষ কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক পদ লাভ করি। এবারের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও যদি সংগঠন আমাকে রাখে তবে আমি তা স্বাচ্ছন্দে গ্রহণ করব। আর কোন দায়িত্ব না পেলেও রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করব।
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর আহমদ শাহিন বলেন, আমি পদলাভের আশায় রাজনীতি করি না। পুর্বে পদে থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক কর্মকান্ডে আমার উপস্থিতি যেমন ছিল বর্তমানেও তেমনই আছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন যেকোন অঙ্গ-সংগঠনের সাথে কাজ ভবিষ্যতে কাজ করার ইচ্ছা আছে।



