সিলেট জেলা

জৈন্তাপুরে প্রবাসীর মায়ের ওপর নৃশংস হামলায় মৃত্যু

পারিবারিক শত্রুতায় দেশছাড়া পরিবার ও প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

 

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:জৈন্তাপুর উপজেলার সরুখেল গ্রামে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীর মাতা শাওদা বেগম ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহ রাজিউন। গত শনিবার ২৩ আগস্ট তিনি পরলোকগমন করেন।
প্রবাসী মাহবুবুর রহমান এর পরিবারের ওপর ধারাবাহিক হামলা, হুমকি ও মামলার পর দীর্ঘদিন তার মাতা হাসপাতালে ভর্তি থেকে তিনি মারা যান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার এক মুরব্বি জানান, প্রভাবশালী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পরিবারটিকে দেশছাড়া করা হয়েছে এবং ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ করা হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত শাওদা বেগম (৪৫)-এর ভাই জানান, প্রায় ২০ বছর আগে মাহবুবুর রহমানের বাবা সামছুল করিম পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দুবাইয়ে পাড়ি জমান। ২০২০ সালে বড় ছেলে দুবাইয়ে যান এবং চলমান উত্তেজনার মধ্যে মাহবুবুর রহমান ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে যান। এতে পরিবারটি কার্যত দেশে অসহায় অবস্থায় পড়ে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে তার চাচাতো বোন মাইসা করিমের সম্পর্ক নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে মাহবুবুর রহমানের চাচা সুলতান করিম ,তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতা ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর মাহবুবুর রহমানের ওপর একাধিকবার হামলা ও হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে সুলতান করিম তার মেয়ে মাইসা করিমকে অন্যত্র বিয়ে দেন। বিয়ের দুই দিনের মাথায় মাইসা আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। মাইসার মৃত্যুর দায় মাহবুবুর রহমানের ওপর চাপিয়ে তার পরিবারকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক তৎপরতা শুরু হয় বলে এলাকাবাসীর দাবি।

পরিবারের অভিযোগ, ২৬ অক্টোবর ২০২৪ মাহবুবুর রহমানের বাড়িতে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। হামলায় শাওদা বেগম গুরুতর আহত হন এবং তার ছোট ছেলেও মারধরের শিকার হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শাওদা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দীর্ঘ প্রায় ১০ মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার ২৩ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। স্থানীয়দের দাবি, হামলার আঘাত ও পরবর্তী জটিলতার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, জানাজার সময়ও চাপের পরিবেশ ছিল। শেষ পর্যন্ত শাওদা বেগমের ভাই ফখরুল ইসলাম ও আত্মীয়স্বজনের উদ্যোগে জানাজা সম্পন্ন হয়। স্থানীয় কয়েকজন বলেন, “তিনি অত্যন্ত ভালো ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সুলতান করিম একজন প্রভাবশালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র উপজেলা পর্যায়ের নেতা হওয়ায় এলাকায় তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। অর্থ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার কারণে প্রশাসনের একটি অংশ নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে পারছে না বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। ফলে ভুক্তভোগী পরিবার কার্যকর আইনি প্রতিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে তাদের দাবি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সুলতান করিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এলাকার একাধিক বাসিন্দা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “ভয়ের পরিবেশে কেউ মুখ খুলতে চাইছে না। সবাই চাপের মধ্যে আছে।”

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button