আন্তর্জাতিক

বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ইরান

অ্যামেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এখন বন্ধ। ইরানে ফের সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু করেছেন সাধারণ জনগণ। তাঁদের দাবি, শত্রু বাইরে নয়, দেশের ভিতরেই

প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল শনিবার। রবিবার তার তীব্রতা আরও বাড়ল। ইরানের রাজধানী তেহরানের রাজপথ দখলে রাখলেন বিক্ষোভকারীরা।

এক সপ্তাহের মধ্যেই বদলে গেল ইরানের ছবি। সাধারণ মানুষ পথে নেমেছিলেন অ্যামেরিকার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। কারণ মার্কিন ড্রোন হানায় নিহত হয়েছিলেন ইরানের অন্যতম জেনারেল কাসিম সোলেইমানি। কাসিম হত্যার জবাবে ইরানও ইরাকে মার্কিন সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা চালিয়েছিল। সাধারণ মানুষ তাতেও সায় দিয়েছিলেন। কিন্তু সমস্যা হল তার পরেই। যে দিন ইরাকে মিসাইল হামলা চালিয়েছিল ইরান, সে দিনই তেহরান থেকে ওড়া একটি ইউক্রেনের বিমান ভেঙে পড়ে। প্রাথমিক ভাবে ইরান জানায়, যান্ত্রিক গোলযোগে বিমানটি ভেঙে পড়েছে। কিন্তু পরে অ্যামেরিকা, কানাডা এবং যুক্তরাজ্যের চাপে ইরানের সেনা স্বীকার করতে বাধ্য হয়, তাদের ছোড়া মিসাইলের আঘাতেই বিমানটি ধ্বংস হয়েছে। উল্লেখ্য, বিমানে ৮০ জনেরও বেশি ইরানি নাগরিক ছিলেন।

Iran | Trauer und Proteste | Flugzeugabsturz

ইরান প্রশাসন বিষয়টি স্বীকার করে নেওয়ার পরেই খামেনি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন ইরানের জনগণ। রাস্তায় রাস্তায় প্রতিবাদ শুরু হয়ে যায়। রবিবার যার তীব্রতা অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে। স্লোগান উঠেছে, ‘শত্রু আসলে বাইরে নয়, দেশের ভিতরেই।’ খামেনি সরকারের পদত্যাগের দাবি উঠেছে সর্বত্র।

বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরকারও কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সহ রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চল ঘিরে ফেলেছে সেনা। বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে কাঁদানে গ্যাস। ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জও হচ্ছে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা পিছু হটছেন না। খামেনি বিরোধী রাজনৈতিক নেতারাও এই বিক্ষোভে নৈতিক সমর্থন জানাচ্ছেন। গৃহবন্দি থেকেও তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিবৃতি প্রকাশ করছেন।

বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও। টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘ইরান সমস্যার সমাধানে বোঝাপড়ায় আসতে চাইলে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যেন খারাপ ব্যবহার করা না হয়।’

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button