আইনসিলেট জেলাসিলেট বিভাগ

সিলেটে পুলিশের জিম্মায় প্রবাসী বধূ তাহমিনা

জনতার ডাক ::সিলেটের প্রবাসী বধূ তাহমিনা বেগম। স্বামী কবির মিয়া বর্তমানে সৌদি আরবে বসবাস করছেন। ইমোর মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী গ্রামের আরেক সৌদি প্রবাসীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাহমিনার। সৌদিতে থাকার সময় থেকেই নূর মিয়ার সঙ্গে এই সম্পর্ক। সম্প্রতি নূর মিয়া দেশে এলে তার সঙ্গে ঘর ছাড়েন তাহমিনা। নূর মিয়ার সঙ্গে ছিলেন কিছুদিন। এরপর নূর মিয়াও তাকে আশ্রয় দেননি। এরপর স্বামীর গৃহে ফিরতে চাইলেও তাকে আশ্রয় দেয়া হয়নি।

২৫ দিন ছিলেন এলাকার দুই মেম্বারের জিম্মায়। মঙ্গলবার মেম্বারদের সহায়তায় স্বামীর বাড়িতে উঠতে চাইলে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে এসেছে। সিলেট শহরতলীর জালালাবাদ থানার কেমিদপুর ভুলতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এখন প্রবাসী বধূ তাহমিনা বেগম রয়েছেন পুলিশের হেফাজতে, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- ভুলতা গ্রামের সৌদি প্রবাসী কবির মিয়ার স্ত্রী দুই সন্তানের জননী তাহমিনা বেগম। স্বামীর অবর্তমানে একই ইউনিয়নের ভগতিপুর গ্রামের নূর মিয়ার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। সম্পর্কের টানে গত ৯ই জানুয়ারি রাতে দুই সন্তান ফেলে পরকীয়া প্রেমিক নূর মিয়ার হাত ধরে পালিয়ে যায় তাহমিনা। যাওয়ার সময় স্বামীগৃহ থেকে নগদ ৫ লাখ টাকা ও ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে যায়। সন্ধান না পেয়ে পরদিন ১০ই জানুয়ারি শাশুড়ি ছফিনা বেগম জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন ১১ই জানুয়ারি পরকীয়া প্রেমিক নূর মিয়ার বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে স্থানীয় দুই ইউপি মেম্বারের হেফাজত ও তত্ত্বাবধানে থেকে ভবঘুরে দিনযাপন করতে থাকে পরকীয়া তাহমিনা। এদিকে সাধারণ ডায়েরি ছাড়াও থানায় নিয়মিত মামলার এজাহারও দাখিল করেছিলেন শাশুড়ি ছফিনা। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ওই দুই ইউপি মেম্বারের কবল থেকে প্রবাসী বধূ তাহমিনাকে উদ্ধার কিংবা আটক করেনি জালালাবাদ থানা পুলিশ। দীর্ঘ ২৫ দিন ভবঘুরে দিন কাটিয়ে উল্লিখিত মেম্বারদ্বয়ের তত্ত্বাবধানেই মঙ্গলবার প্রবাসী স্বামী কবির মিয়ার বাড়িতে গিয়ে হাজির হয় তাহসিনা। শাশুড়ি ছফিনা তাকে গ্রহণ না করলে ওই দুই ইউপি মেম্বার পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে তাহমিনা জালালাবাদ থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাহমিনার পিতার বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক থানার রায় সন্তোষপুরে। সে ওই গ্রামের মৃত আক্তার আলীর মেয়ে। জালালাবাদ থানার ওসি নাজমুল হুদা খান তাহমিনা উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন- প্রাথমিকভাবে তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।

প্রধান সম্পাদক

জনতার ডাক ২৪ ডট কম এর প্রধান সম্পাদক।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button